যশোরের কেশবপুরে সরকারি ডিগ্রি কলেজে তীব্র শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান। ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সালে সরকারি হলেও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের শিক্ষার গুণগত মান অর্জনে বাধা সৃষ্টি করছে।
কলেজে কৃষিশিক্ষা বিষয়ের কোনো শিক্ষক নেই, ফলে বাধ্য হয়ে ভূগোল বিভাগের শিক্ষকরা এই বিষয়টি পড়ান। রসায়ন বিভাগে অনুমোদিত দুটি পদ থাকলেও কোনো শিক্ষক নেই, যার ফলে খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে কোনোমতে পাঠদান চলছে। এছাড়া ৪ হাজার ২৫১ জন শিক্ষার্থীর ইংরেজি ক্লাস নেওয়ার জন্য আছেন মাত্র একজন শিক্ষক, যেখানে তিনজন শিক্ষক থাকা জরুরি ছিল।
শ্রেণকক্ষের অভাব এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম বড় সংকট। একটি পুরনো ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়, যেখানে বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে এবং শ্রেণিকক্ষ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আধুনিক ল্যাবের সুবিধাও এখানে নেই।
কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রধান আবদুল হান্নান জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে যে সুবিধা পাওয়ার কথা, তা থেকে তারা বঞ্চিত। মন্ত্রণালয়কে বারবার অবকাঠামোর প্রয়োজনের কথা জানানো হলেও নতুন কোনো ভবন নির্মাণ করা হয়নি।
যশোরের শিক্ষা প্রকৌশলী ইলিয়াস আলী জানান, ছয়তলা ভবন নির্মাণের একটি প্রস্তাব শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
বর্তমানে কলেজটিতে ৬৫ জন শিক্ষকের বিপরীতে ১১টি পদ শূন্য রয়েছে। প্রশাসনিক কাজ চালানোর জন্য ১৬ জন অস্থায়ী কর্মচারী নিয়োগ দিতে হচ্ছে। নতুন জাতীয়করণ হওয়া কলেজগুলোর শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা চূড়ান্ত না হওয়ায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ।