ভারতের এক তরুণ বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের (টিসিএস) চাকরির সুযোগ ফিরিয়ে দিয়ে চালের ব্যবসায় জড়িয়ে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন। অংকিত পান্ডে নামের এক ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই তরুণের সাফল্যের গল্প তুলে ধরলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। উদ্যোক্তা হওয়ার পথে নেওয়া এই বড় ঝুঁকি এবং সফলতার গল্পটি কর্মসংস্থান নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
টিসিএসে ক্যাম্পাস প্লেসমেন্টের সুযোগ পাওয়ার পর তা প্রত্যাখ্যান করলে ওই তরুণের বন্ধুরা তাকে নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু কারও কথায় কান না দিয়ে তিনি বিভিন্ন গ্রাম ও রাজ্য থেকে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ শুরু করেন। তার এই উদ্যোগ তরুণদের মধ্যে করপোরেট ক্যারিয়ারের বাইরেও স্বনির্ভর হওয়ার নতুন পথ দেখাচ্ছে।
ব্যবসায়িক মডেল ও আয়
পান্ডে জানান, তার বন্ধু কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি চাল ৩৫ রুপিতে কেনেন। এরপর প্রক্রিয়াজাত, প্যাকেটজাত এবং পরিবহন খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজিতে ব্যয় হয় আরও ৫ রুপি। মোট ৪০ টাকা উৎপাদন খরচের এই চাল তিনি বিভিন্ন খুচরা দোকানে ৫০ রুপি কেজি দরে বিক্রি করেন। খুচরা বিক্রেতারা তা সাধারণ গ্রাহকদের কাছে ৫৫ থেকে ৫৭ রুপিতে বিক্রি করেন। বর্তমানে তিনি প্রতি মাসে ২০০ কুইন্টাল বা ২০ হাজার কেজি চাল প্রায় ২০০টি দোকানে সরবরাহ করছেন। এই প্রক্রিয়ায় প্রতি কেজি চাল থেকে ১০ রুপি লাভ করে তিনি বছরে ২৫ লাখ রুপি আয় করছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনাটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে ব্যবসায়িক ঝুঁকি ও সফলতার প্রশংসা করে বলছেন, নিজের সাপ্লাই চেইন তৈরি করতে পারলে তা করপোরেট বেতনের চেয়েও বেশি লাভজনক। তবে অনেকে সতর্ক করে বলেছেন, ব্যবসায়িক ঝুঁকি এবং দায়িত্ব চাকরি করার চেয়ে অনেক বেশি এবং এটি আপাতদৃষ্টিতে সহজ মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে ব্যাপক পরিশ্রম।