যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তিতে তৈরি প্রাণীদের ভুয়া ছবি ও ভিডিওর কারণে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। পোষা প্রাণীর মালিক, উদ্ধারকারী সংস্থা এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষকরা জানিয়েছেন, মেরু ভাল্লুক থেকে শুরু করে গৃহপালিত বিড়াল পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি ছবি আসল কি না, তা যাচাই করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এআই প্রযুক্তির এই দৌরাত্ম্য ইন্টারনেটে প্রাণীদের নিয়ে থাকা মানুষের সহানুভূতি ও আনন্দকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বিভ্রান্তির শিকার এক ভুক্তভোগী মিবি বাটলার জানান, তার হারানো বিড়াল ব্রুকলিনকে খুঁজে পাওয়ার কথা বলে প্রতারকরা তাকে এআই দিয়ে তৈরি একটি ভুয়া ছবি পাঠিয়েছিল। প্রতারকরা বিড়ালের বিনিময়ে অর্থ দাবি করলে বাটলার ছবিটির খুঁটিনাটি পরীক্ষা করে দেখেন, সেখানে থাকা লেখাগুলো অস্পষ্ট। এটি এআই জেনারেটেড ছবির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বিড়ালটি খুঁজে পাওয়ার পর চার মাস পার হলেও তিনি এখনো তার পোষা প্রাণীটিকে ফিরে পাননি।
প্রকৃত প্রাণীদের ওপর চালানো জুলুম বা কষ্টের ছবি তুলে ধরা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোও এখন বিপাকে পড়েছে। সংস্থাগুলো বলছে, তাদের তোলা সত্য ঘটনাভিত্তিক ছবিকেও দর্শকরা এআই জেনারেটেড বলে সন্দেহ করছেন। এতে আসল পশু নির্যাতনের তথ্যগুলো মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে, যা প্রাণী অধিকার রক্ষায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এআই দিয়ে তৈরি বন্যপ্রাণী উদ্ধারের কাল্পনিক ভিডিওগুলো মানুষের মনে ভুল ধারণা তৈরি করছে। এর ফলে প্রকৃত উদ্ধারকাজের জন্য তহবিল সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ছে এবং মানুষ ভুল ও বিপজ্জনক উদ্ধারপদ্ধতিতে উৎসাহিত হতে পারে।
এই সমস্যা মোকাবিলায় নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর মাইন্ড, এথিক্স অ্যান্ড পলিসি-র পরিচালক জেফ সেবো এআই ডেভেলপারদের নির্দেশনা দিচ্ছেন। তিনি চাইছেন, এআই মডেলে এমন নিয়ম থাকুক যা প্রাণীদের জন্য ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরিতে নিরুৎসাহিত করবে। এছাড়া ক্যালিফোর্নিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন আইন অনুযায়ী, এআই জেনারেটেড ছবিতে বিশেষ লেবেল বা সংকেত ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বয়ংক্রিয় যাচাইকরণ টুল সহজলভ্য করা গেলে এই বিভ্রান্তি কমানো সম্ভব হবে।