যুক্তরাজ্যের জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফজেম জানিয়েছে, আগামী ১ অক্টোবর থেকে গৃহস্থালি পর্যায়ে জ্বালানির মূল্য চার শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। ইরান যুদ্ধের কারণে পাইকারি বাজারে গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ার ফলে দেশটির সাধারণ মানুষের বিদ্যুত ও গ্যাসের বিল গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে যাচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীদের বার্ষিক বিল ৬০ পাউন্ড পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ গ্রাহক নির্দিষ্ট ট্যারিফের (ফিক্সড ট্যারিফ) আওতায় থাকায় তাদের খরচে আপাতত কোনো প্রভাব পড়বে না।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নাম এই মূল্যবৃদ্ধিকে সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন পরিস্থিতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, সরকার বিদ্যুত বিলে ভ্যাট কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে, যা অক্টোবর থেকে গ্রাহকদের ৪৫ পাউন্ড সাশ্রয় করতে সাহায্য করবে। এছাড়া শীতে প্রায় ৬০ লাখ পরিবার ‘ওয়ার্ম হোমস ডিসকাউন্ট’ প্রকল্পের আওতায় ১৫০ পাউন্ড পর্যন্ত ছাড় পাবে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, নতুন বছরের শুরুতে জ্বালানির দাম আরও নয় শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে, যা শীতকালে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।
জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলগুলো সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছে। ছায়া জ্বালানিমন্ত্রী ক্লেয়ার কুটিনহো অভিযোগ করেন, সরকার জ্বালানি বিল ৩০০ পাউন্ড কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও উল্টো তা প্রায় ৪০০ পাউন্ড বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, সংস্কারপন্থী দলগুলোর দাবি, সরকারের বর্তমান নীতি জ্বালানির দাম আরও উসকে দিচ্ছে।
অফজেমের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইংল্যান্ড, ওয়েলস এবং স্কটল্যান্ডের প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ পরিবার এই মূল্যবৃদ্ধির আওতাভুক্ত। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, গ্যাসের পাইকারি দাম ৮ শতাংশ বাড়লেও সরকারি ভ্যাট ছাড়ের কারণে বিদ্যুতের দাম কিছুটা কমছে। এর ফলে গৃহস্থালিতে গ্যাস হিটারের পরিবর্তে হিট পাম্প ব্যবহারে উৎসাহিত করছে কর্তৃপক্ষ।
জ্বালানি সরবরাহকারী সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, দেশটিতে জ্বালানি বিল বকেয়ার পরিমাণ বর্তমানে ৬০০ কোটি পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে, যা বছরের শেষ নাগাদ ৭০০ কোটি পাউন্ডে পৌঁছাতে পারে। বকেয়া বিলের চাপে থাকা গ্রাহকদের সহায়তার জন্য অনেক বিশেষজ্ঞ ও দাতব্য সংস্থা সরকারের কাছে একটি নির্দিষ্ট ‘সোশ্যাল ট্যারিফ’ বা সামাজিক মূল্যস্তর চালুর দাবি জানিয়েছে।