যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের অগাস্টায় আয়োজিত টেকনেট সম্মেলনে দেশটির সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর দূরপাল্লার স্থলভিত্তিক জ্যামার বা ‘টেরেস্ট্রিয়াল লেয়ার সিস্টেম-ইচেলনস এবাভ ব্রিগেড’ (TLS-EAB) ২০২৭ অর্থবছর থেকে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাবে। ধারণা ও প্রোটোটাইপ তৈরির চুক্তি সম্পাদনের কয়েক বছর পর এই মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে মার্কিন সেনাবাহিনী।
ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ওয়ারফেয়ার অ্যান্ড কালেকশন বিভাগের উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক মার্ক স্যাক্সন জানান, পাঁচ বছর আগে যখন এই কর্মসূচি শুরু হয়েছিল, তখন নির্দিষ্ট কিছু চাহিদাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে যুদ্ধের পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় সেই পুরনো চাহিদাগুলো আর কার্যকর নেই। এই বাস্তবতায় তারা মানসিকতায় পরিবর্তন এনে বাণিজ্যিক পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
২০২০ সালের দিকে এই সিস্টেমটি সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের একটি সমন্বিত সক্ষমতা হিসেবে পরিকল্পনায় ছিল। এটি ডিভিশন ও কোরের মতো উচ্চতর পর্যায়ের সামরিক ইউনিটের জন্য তৈরি করা হচ্ছিল। তবে ২০২৩ সালের শুরু থেকে সেনাবাহিনী এই কৌশলে পরিবর্তন আনে। এখন এই কর্মসূচিকে সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার—এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। আগামী বছর উভয় ধরনের প্রযুক্তির সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে TLS-EW প্রযুক্তিটি একটি বহনযোগ্য বাক্সের মতো তৈরি করা হয়েছে, যা নির্দিষ্ট কোনো যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল নয়। এছাড়া হামভি বা জয়েন্ট লাইট ট্যাকটিক্যাল ভেহিকেলের মতো যানবাহনে ব্যবহারের জন্য এর বিভিন্ন সংস্করণ বর্তমানে পরীক্ষাধীন রয়েছে।
প্যাসিফিক অঞ্চলে ২৫তম পদাতিক ডিভিশনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রোটোটাইপের সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এর পাশাপাশি সেনাবাহিনীর আকাশপথে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর কাজও চলছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আকাশপথে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সংক্রান্ত নথিপত্র চূড়ান্ত করার আশা করছে সেনাবাহিনী।
প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে আর্মি ফিউচারস অ্যান্ড কনসেপ্টস কমান্ডের ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ডিরেক্টরেটের পরিচালক কর্নেল জন হ্যারেল বলেন, কমান্ডাররা এখন ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারকে যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে দেখছেন। শত্রুপক্ষের সিগন্যাল শনাক্তকরণ, লক্ষ্যবস্তু নির্ণয় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটানোর ক্ষেত্রে এই আধুনিক প্রযুক্তি বড় ভূমিকা রাখবে।