নেপালের কাঠমান্ডুর উত্তরে চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় বুধবার সকালে অনুভূত হওয়া কম্পন ভূমিকম্প নয়, বরং একটি শক্তিশালী ভূমিধসের কারণে সৃষ্টি হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। ইউএসজিএস-এর তথ্যমতে, ভূমিধসের এই বিশাল শক্তি ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য ছিল, যা পরবর্তীতে আকস্মিক বন্যার জন্ম দেয়।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ইউএসজিএস প্রথমে এটিকে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে শনাক্ত করেছিল। পরে সংস্থাটি জানায়, একই সময়ে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে একটি বিশাল ভূমিধস লেন্দে খোলা নদীতে পড়ার ফলে এই কম্পন অনুভূত হয়। লেন্দে খোলা ভোতে কোশি নদীর একটি শাখা, যা চীন থেকে নেপালে প্রবেশ করেছে। এই ভূমিধসের প্রভাবেই নদীতে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
উদ্ধার অভিযান ও ক্ষয়ক্ষতি
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, নেপাল পুলিশ এখন পর্যন্ত ১৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। রাসুয়া, ধাদিং এবং নুওয়াকোট জেলা বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ চলমান রয়েছে। নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বিপর্যয়ের পর অন্তত ৪০৩ জন পর্যটকের কোনো খোঁজ মিলছে না। নিখোঁজদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক, যার মধ্যে ১৪২ জন ভারতীয়। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরাও রয়েছেন।
উদ্ধার তৎপরতা
কাদামাটির নিচে চাপা পড়া জীবিত মানুষ বা মরদেহ উদ্ধারে উদ্ধারকারীরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ত্রাণ কার্যক্রমে সরকারের সব ধরনের সম্পদ ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একইসঙ্গে বন্যার ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলো থেকে স্থানীয় পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।