নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ২৮৯ জন নিহত হয়েছেন। কাঠমান্ডু পোস্টের বরাত দিয়ে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, এই দুর্যোগে বিদেশি নাগরিক ও তীর্থযাত্রীসহ ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। হিমালয়ের দুর্গম উপত্যকায় আকস্মিক এই বিপর্যয়ের ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যা ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।
ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার ধসে যাওয়া এলাকাগুলোতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও ড্রোন ফুটেজে ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। এতে দেখা যায়, বন্যার তোড়ে বাড়িঘর ও সেতু ভেঙে পড়ছে এবং প্রাণ বাঁচাতে মানুষ দিশেহারা হয়ে ছুটছে।
দুর্গত এলাকাগুলোর পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। নুয়াকোটের মতো এলাকাগুলোর অনেক ভবন দোতলা পর্যন্ত কাদার নিচে চাপা পড়েছে। গাছের ডালপালা ও বৈদ্যুতিক তারে আটকে আছে ধ্বংসাবশেষ এবং মাটির নিচে চাপা পড়েছে বহু যানবাহন। বন্যার কারণে বেশ কিছু এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। দুর্যোগটি এতটাই আকস্মিক ছিল যে, স্থানীয় বাসিন্দারা আত্মরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাননি।
ঘটনার ভয়াবহতা নিয়ে কথা বলেছেন স্থানীয় সাংবাদিক নিরঞ্জন পৌডিয়াল। তিনি জানান, নুয়াকোটের সোলি গ্রামটি প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। নিখোঁজ আত্মীয়স্বজনের খোঁজে ঘটনাস্থলে যাওয়া পৌডিয়াল আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এখন পর্যন্ত তাদের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি এবং জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে।