স্পেনের বার্সেলোনায় অবস্থিত ইনস্টিটিউট অফ ইভোলিউশনারি বায়োলজি (আইবিই) এবং স্প্যানিশ ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিলের (সিএসআইসি) গবেষকরা পোকা খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে নতুন এক তথ্য প্রকাশ করেছেন। তাদের গবেষণা অনুযায়ী, ইউরোপসহ উত্তর ইউরেশিয়ার মানুষের মধ্যে পোকামাকড় খাওয়ার প্রতি যে অনাগ্রহ দেখা যায়, তা প্রায় ৯ হাজার বছরের পুরনো বিবর্তনীয় ইতিহাসের ফল। সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রাচীনকালে উত্তর ইউরেশিয়ার মানুষ খুব কমই পোকা খেত, কিন্তু নিয়ান্ডারথালদের খাদ্যতালিকায় পোকা নিয়মিত ছিল।
গবেষক দলটির প্রধান পাবলো লিরাডো জানান, উত্তর ইউরেশিয়ার মানুষদের দাঁতের ক্যালকুলাস বা টারটার এবং ডিএনএ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রায় ৯ হাজার বছর আগে কৃষি বিপ্লবের সময় থেকেই তাদের পোকা হজম করার জিনগত সক্ষমতা হ্রাস পেতে শুরু করে। পোকামাকড়ের শরীরের শক্ত আবরণ বা কাইটিন ভাঙার জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম তৈরিতে অক্ষমতা তাদের এই খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।
অন্যদিকে, গবেষণায় দেখা গেছে যে নিরক্ষীয় অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর মধ্যে পোকা হজম করার জিনগুলো আজও কার্যকর রয়েছে। সেখানে পর্যাপ্ত পোকামাকড়ের প্রাপ্যতা থাকায় এবং উচ্চ ক্যালরি মেটানোর প্রয়োজনে তারা এই খাদ্যাভ্যাস ধরে রেখেছে। বিপরীতে, ইউরোপীয় অঞ্চলে পোকামাকড়ের প্রাপ্যতা কম থাকায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিবর্তনের ধারায় সেখানকার মানুষের শরীর থেকে পোকা হজম করার ক্ষমতা কমে গেছে।
গবেষকদের মতে, আধুনিক বিশ্বে খাদ্যসংকট মোকাবিলায় পোকামাকড় একটি টেকসই পুষ্টির উৎস হতে পারে। তবে মানুষের এই দীর্ঘস্থায়ী অনাগ্রহ এবং শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়টি বুঝতে এই বিবর্তনীয় ইতিহাস জানা জরুরি। বর্তমানে বিজ্ঞানীরা পোকা চাষ ও গৃহপালিত পোকামাকড়ের জিনোম নিয়ে কাজ করছেন, যাতে ভবিষ্যতের খাদ্য চাহিদা মেটাতে পোকামাকড়কে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়।