যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অ্যাপল একসময় অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের সমালোচনা করে একে ‘টক্সিক হেলস্টু’ বা ক্ষতিকর জঞ্জাল বলে অভিহিত করেছিল। প্রযুক্তি বিশ্লেষক আদ্রিয়ান কিংসলে-হিউজ এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, সেই সময় অ্যান্ড্রয়েডের নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে অ্যাপল নিজেদের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার ব্যবস্থায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিল। কিন্তু এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির যুগে এসে অ্যাপল নিজেই নতুন ধরনের আইনি ও নিয়ন্ত্রণজনিত জটিলতার সম্মুখীন হয়েছে।
অ্যাপলের কৌশল ও ওয়াল্ড গার্ডেন
অ্যাপল গত এক দশকে তাদের ডিভাইসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ওয়াল্ড গার্ডেন’ বা সুরক্ষিত প্রাচীর তৈরির কৌশল অবলম্বন করেছে। এর মাধ্যমে তারা অ্যাপ স্টোর থেকে শুরু করে পেমেন্ট পদ্ধতি পর্যন্ত প্রতিটি বিষয় নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। কোম্পানিটি দাবি করে আসছে, ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এমন কঠোর নিয়ম মেনে চলা হয়। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো অ্যাপলের এই একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণকে বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখছে।
এআই ও নতুন আইনি লড়াই
বর্তমান সময়ে অ্যাপলের নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। কোম্পানিটি তাদের ‘সিরি এআই’ (Siri AI) সেবা নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্টের (ডিএমএ) সাথে জটিলতায় জড়িয়েছে। এআই প্রযুক্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে অ্যাপল অনেক ক্ষেত্রে ইউরোপের বাজারে তাদের নতুন সেবা চালু করা থেকে বিরত থাকছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অভিযোগ, অ্যাপল তাদের প্ল্যাটফর্মকে গেটকিপার হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিযোগীদের সুযোগ সীমিত করছে।
তথ্যের সুরক্ষা ও তৃতীয় পক্ষের ব্যবহার
অ্যাপল তাদের এআই সেবার জন্য গুগলকে প্রতি বছর প্রায় ১০০ কোটি ডলার প্রদান করছে। তবে কোম্পানিটি স্পষ্ট করেছে যে, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য যেন এআই কোম্পানিগুলোর কাছে চলে না যায়, তা নিশ্চিত করতে তারা সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ—এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রাখা বর্তমানে অ্যাপলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি বিশ্বে অ্যাপলের এই নতুন লড়াই মূলত তাদের পুরনো কৌশলেরই এক আধুনিক সংস্করণ।