সুইজারল্যান্ডের গবেষকরা মাটির জৈবিক সক্রিয়তা ও উর্বরতা পরিমাপের জন্য দেশজুড়ে ১০০০ স্বেচ্ছাসেবকের সহায়তায় দুই হাজারেরও বেশি সুতির অন্তর্বাস মাটিতে পুঁতে রাখার এক ব্যতিক্রমী গবেষণা সম্পন্ন করেছেন। ইউনিভার্সিটি অব জুরিখ (UZH) এবং অ্যাগ্রোস্কোপের গবেষকদের নেতৃত্বে ২০২১ সালে শুরু হওয়া ‘প্রুফ বাই আন্ডারপ্যান্টস’ শীর্ষক এই নাগরিক বিজ্ঞান প্রকল্পটি সম্প্রতি ‘প্ল্যান্টস, পিপল, প্ল্যানেট’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। মাটির গুণাগুণ ও জৈবিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
পরীক্ষাটি ছিল বেশ সহজবোধ্য। অংশগ্রহণকারী ১০০০ স্বেচ্ছাসেবক সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন প্রান্তে নির্দিষ্ট নিয়মে সুতির অন্তর্বাস এবং টি-ব্যাগ মাটিতে পুঁতে রাখেন। দুই মাস পর সেগুলো তুলে ছবি তোলা হয় এবং গবেষণাগারে মাটিসহ বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হয়। গবেষকরা দেখতে পান, মাটির জৈবিক সক্রিয়তা যত বেশি, সুতির কাপড় তত দ্রুত বিয়োজিত বা নষ্ট হয়েছে।
ফলাফলে দেখা গেছে, ব্যক্তিগত বাগানগুলোতে মাটির সক্রিয়তা সবচেয়ে বেশি, যা কেঁচো, ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। বিপরীতে, ঘাসের লনগুলোতে এই সক্রিয়তা ছিল সর্বনিম্ন। কৃষি জমি ও তৃণভূমিগুলো বাগান ও লনের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব জুরিখের অধ্যাপক ও গবেষণার সহ-নেতা মার্সেল ভ্যান ডের হেইডেন জানান, মাটির ব্যবস্থাপনা সরাসরি এর জীবনীশক্তি ও গুণমানকে প্রভাবিত করে। সুস্থ ও জৈবিকভাবে সক্রিয় মাটি ফসলের উর্বরতা এবং পুষ্টি চক্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকরা বলছেন, জমিতে সার বা কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে এবং কম্পোস্ট ব্যবহার করে মাটির স্বাস্থ্য উন্নত করা সম্ভব।
তবে গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, দ্রুত কাপড় পচে যাওয়া সবসময় ইতিবাচক নয়। বনাঞ্চলের মতো প্রাকৃতিক পরিবেশে পুষ্টির মাত্রা খুব বেশি থাকা প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্টের ইঙ্গিত হতে পারে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে গবেষকরা একটি ‘আন্ডারওয়্যার ইনডেক্স’ তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন, যা সাধারণ মানুষের কাছে মাটির স্বাস্থ্য বোঝার একটি সহজ উপায় হয়ে উঠবে।