ব্রাজিলের সাও পাওলোতে আয়োজিত লিবারেল পার্টির সম্মেলনে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই অভিযোগ করেছেন, সম্প্রতি শেষ হওয়া ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের সমালোচনা ও বর্ণবাদের অভিযোগের পেছনে একটি সুসংগঠিত ‘আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণা’ কাজ করেছে। তার দাবি, এই প্রচারণায় অর্থায়ন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং ব্রাজিল ও মেক্সিকো সরকার।
মিলেই স্থানীয় একটি রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, প্রগতিশীল মানসিকতার গোষ্ঠীগুলো মুক্ত চিন্তাধারাকে বাধাগ্রস্ত করতে এমন ষড়যন্ত্র করেছে। তার অভিযোগ, এই অর্থায়নের বড় একটি অংশ এসেছে ব্রাজিলের লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা সরকারের কাছ থেকে। গত শনিবার ব্রাজিলের সিনেটর ফ্ল্যাভিও বোলসোনারোর প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি লুলা দা সিলভাকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।
টুর্নামেন্ট চলাকালে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের বর্ণবাদী আচরণের সমালোচনা করেছিলেন অভিনেতা স্যামুয়েল এল জ্যাকসনসহ বিশ্বের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি। মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল। কিন্তু মিলেই দাবি করছেন, এসব প্রচারণা পরিকল্পিতভাবে তার দেশের বিরুদ্ধে চালানো হয়েছে।
এদিকে ডিজিটাল নৃবিজ্ঞানী মার্সিডিজ মাসপেরো এবং গবেষক নাতালিয়া আরুগেতে জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনা নিয়ে বৈরী আলোচনা থাকলেও মিলেইর তোলা ‘সুসংগঠিত প্রচারণার’ কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ব্রাজিলের যোগসাজশের বিষয়টিও ভিত্তিহীন বলে মনে করছেন তারা।
আর্জেন্টিনার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব ও বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা বর্তমানে তলানিতে। মূলত অভ্যন্তরীণ সংকট থেকে জনগণের মনোযোগ সরাতেই তিনি বহিরাগত শত্রুর বয়ান তৈরি করেছেন, যা ১৯৭৮ সালে সামরিক স্বৈরশাসকদের কৌশলের মতোই।