যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নির্মাণ খাতে প্রতারণা বা ‘কাউবয় বিল্ডার’দের দৌরাত্ম্য কমাতে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জানিয়েছেন, অসাধু নির্মাণ কর্মীরা সৎ ও পরিশ্রমী ব্যবসায়ীদের দুর্নাম করছে এবং পরিবারগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তিতে ফেলছে। মূলত গ্রাহকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং নির্মাণ কাজে স্বচ্ছতা আনতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
নতুন এই পরিকল্পনার আওতায় একটি বিশ্বস্ত নির্মাণ কর্মীদের ডেটাবেজ তৈরি করা হবে এবং পেমেন্ট ব্যবস্থা আরও সুরক্ষিত করা হবে। আগামী মাস থেকে চালু হতে যাওয়া এই স্কিমে নিবন্ধিত ব্যবসায়ীদের গ্রাহক সেবা ও বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ড বজায় রাখতে হবে। প্রকল্প চলাকালীন গ্রাহকের অর্থ একটি বিশেষ অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত থাকবে এবং কাজ শেষ হওয়ার পর ধাপে ধাপে তা প্রদান করা হবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ মাসে যারা বাড়ি সংস্কার করেছেন, তাদের মধ্যে এক-চতুর্থাংশই বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো অগ্রিম অর্থ নিয়ে নির্মাণ কর্মীদের উধাও হয়ে যাওয়া। ২০২৪ সালে বাড়ির সংস্কার ও বাগানের রক্ষণাবেক্ষণ কাজে গ্রাহকরা প্রায় ১০ বিলিয়ন পাউন্ডের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে প্রতিযোগিতা ও বাজার কর্তৃপক্ষের জরিপে উঠে এসেছে।
এই উদ্যোগ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। ন্যাশনাল ফেডারেশন অব বিল্ডার্সের পলিসি ডিরেক্টর রিকো ওয়জতুলেভিচ-রিচমন্ডের মতে, এই স্কিমে অসাধু ব্যবসায়ীরা যুক্ত হবে না, তাই এটি প্রতারণা পুরোপুরি বন্ধ করতে পারবে না। অন্যদিকে, চার্টার্ড ট্রেডিং স্ট্যান্ডার্ডস ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী জন হেরিমন একে একটি ভালো প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করলেও নির্মাণ খাতে বাধ্যতামূলক লাইসেন্স প্রবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।
বিরোধী দল ও কনজারভেটিভ পার্টির পক্ষ থেকে সমালোচনা করে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগ সৎ ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি নথিপত্রের বোঝা চাপিয়ে দিতে পারে। আইন প্রয়োগ আরও জোরদার এবং প্রতারকদের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করাই বেশি কার্যকর সমাধান বলে তারা মনে করেন।
নির্মাণ কর্মীদের পাশাপাশি ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বেসরকারি বেলিফ বা দেনা আদায়কারীদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণেরও ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সাধারণ মানুষকে ভীতি প্রদর্শন বা অন্যায় আচরণ থেকে রক্ষা করতে বেলিফদের জন্য স্বতন্ত্র অভিযোগ প্রক্রিয়া ও পেশাদার মানদণ্ড নির্ধারণ করা হবে।