ফিনল্যান্ডের হেলসিংকি ও রাশিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ড্রোন প্রতিরোধে সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে ফিনল্যান্ড ও সুইডেন। ফিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ন্যাটো জোটের পূর্বাঞ্চলীয় সীমানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই দুই দেশ যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করবে।
ফিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যান্টি হাক্কানেন জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান আকাশ ও নৌপথের সহযোগিতার পাশাপাশি এবার রাষ্ট্রীয় সীমানা নজরদারি ও অখণ্ডতা রক্ষার কাজেও তারা যৌথভাবে কাজ করবে।
সুইডেনের গণমাধ্যম এসভিটি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, হেলসিংকি সরকার ড্রোন প্রতিরোধে নির্দিষ্ট কোনো কৌশলের কথা উল্লেখ না করলেও, সুইডেন ইতিমধ্যে ফিনল্যান্ডের আকাশসীমা রক্ষায় গ্রিপেন যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের অনুরোধে সাড়া দিয়েছে। মূলত ফিনল্যান্ড-রাশিয়া সীমান্তে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে টহল জোরদারের লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এই দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দুই দেশ একে অপরের ওপর ভরসা রাখে এবং একত্রে তারা আরও শক্তিশালী।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ফিনল্যান্ডের আকাশসীমায় রহস্যময় ড্রোন উড়তে দেখা গেছে, যা মূলত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ঘটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে ড্রোন শনাক্ত হওয়ায় ফিনল্যান্ডকে তাদের এফ-১৮ হরনেট যুদ্ধবিমান মোতায়েন করতে হয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্ট স্টাব জানিয়েছেন, ফিনল্যান্ড সরাসরি কোনো সামরিক হুমকির মুখে নেই।
চলতি বছরের শুরুতে ফিনল্যান্ড সরকার ড্রোন প্রতিরোধ সক্ষমতা অর্জনে ৫০.২ মিলিয়ন ইউরো বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে ৪৪ মিলিয়ন ইউরো ফিনল্যান্ডের বর্ডার গার্ড বা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জন্য এবং বাকি অর্থ পুলিশের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।