বাংলাদেশের পটুয়াখালী সদর উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে যুব জামায়াতের সভাপতি শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশের পর বুধবার পটুয়াখালী সদর থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের আবুল কালামের ছেলে।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারী গত ২২ জুলাই পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। শুনানি শেষে বিচারক মামলাটি সরাসরি থানায় নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, আদালতের নির্দেশনার কপি পাওয়ার পর মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার বিবরণে বলা হয়, সাত বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে ওই নারী তাঁর সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকতেন। এই সুযোগে শহিদুল ইসলাম তাঁকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শহরের একটি বাসায় নিয়ে যান এবং শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। ভুক্তভোগী নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে শহিদুল তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার কথা বলে ওষুধ খাইয়ে জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করে ফেলেন। পরবর্তীতে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে ভুক্তভোগী থানায় যোগাযোগ করেন, কিন্তু তখন তাঁকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান জানান, বিষয়টি যেহেতু আদালতের বিচারাধীন, তাই আপাতত কোনো মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তবে দোষী সাব্যস্ত হলে শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।