বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় সাইবার সুরক্ষা আইন আবারও সংশোধন করতে যাচ্ছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের তথ্যমতে, গুজব, অপতথ্য, মানহানি ও হেয়প্রতিপন্ন করার মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনটি আরও কঠোর করা হচ্ছে। সংসদীয় পরবর্তী অধিবেশনে এই সংশোধিত আইনটি পাসের সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আইনের নতুন ধারা ও শাস্তির বিধান
সংশোধিত আইনের খসড়ায় ২৬/ক নামক নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সাইবার পরিসরে কোনো ব্যক্তি গুজব বা অপতথ্য প্রচার করলে তাকে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড কিংবা সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। গুজবের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, এমন কোনো অসমর্থিত তথ্য যা জনমনে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক বা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা বিভ্রান্তিকর কনটেন্টকেও এই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
মানহানি ও বিশেষ সুরক্ষা
আইনের ২৫ নম্বর ধারায় মানহানি ও হেয়প্রতিপন্ন করার অপরাধে ৫ বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। তবে নারী কিংবা ১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে মানহানিকর তথ্য প্রচারের শাস্তি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ও ৪০ লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আইন পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান অপপ্রচার রোধে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এপ্রিলে সাইবার সুরক্ষা বিল পাসের মাত্র তিন মাসের মাথায় সরকার পুনরায় আইনটি সংশোধনের এই সিদ্ধান্ত নিল। আইন বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় এখন থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে যুক্ত করা হচ্ছে।