ভিয়েতনাম, লাওস, থাইল্যান্ড ও চীনের দক্ষিণাঞ্চলে স্বচ্ছ কাঁচের বোতলে আস্ত সাপ ডুবিয়ে তৈরি ‘স্নেক ওয়াইন’ স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই বিশেষ পানীয়টি প্রাচীন চীনের ঝু রাজবংশের আমলে চিকিৎসালয়ে ওষুধ হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এটি কেবল একটি পানীয় নয়, বরং সামাজিক মর্যাদা ও অতিথিদের আপ্যায়নের মাধ্যম হিসেবেও জনপ্রিয়।
প্রস্তুত প্রণালি
রাইস ওয়াইন বা শস্য থেকে তৈরি উচ্চমানের মদের বোতলে মৃত সাপ ডুবিয়ে এই পানীয় প্রস্তুত করা হয়। স্বাদ ও গুনাগুন বাড়াতে অনেক সময় এর সঙ্গে বিছা, জিনসেং বা বিভিন্ন স্থানীয় লতাপাতা মেশানো হয়। মদে থাকা ইথানল সাপের বিষের প্রোটিন ভেঙে ফেলে, ফলে এটি পান করা নিরাপদ। অনেক জায়গায় গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী ছোট গ্লাসে সাপের রক্তসহ এই পানীয় পরিবেশন করা হয়।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
ঐতিহ্যগত চীনা চিকিৎসা শাস্ত্রে সাপকে শরীর উষ্ণ রাখার উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাসিন্দাদের বিশ্বাস, বাতের ব্যথা ও দীর্ঘস্থায়ী অবসন্নতা দূর করতে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে এই পানীয় কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এছাড়া লোকগাথায় একে প্রাকৃতিক টনিক হিসেবেও গণ্য করা হয়। স্থানীয় বাজারে এটি আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয় এবং বিদেশি পর্যটকদের কাছে স্যুভেনির হিসেবে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।