যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান দিয়েগোর গবেষকরা ডিএনএ কাঠামোর চার অক্ষরের সীমাবদ্ধতা ভেঙে আট অক্ষরের জেনেটিক বর্ণমালা ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জন করেছেন। গবেষক ডং ওয়াং ও তার দলের এই সাফল্যের মাধ্যমে জানা গেছে, কোষের বিদ্যমান জৈবিক যন্ত্রাংশই এই কৃত্রিম জেনেটিক তথ্য প্রক্রিয়াজাত করতে পারে। এই আবিষ্কারটি সিনথেটিক বায়োলজির ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পৃথিবীর সমস্ত পরিচিত জীব সাধারণত চারটি জেনেটিক কোড ব্যবহার করে বেঁচে থাকে। গবেষক দলটি ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার আরএনএ পলিমারেজ এনজাইমের ওপর গবেষণা চালিয়ে দেখেছেন যে, এই এনজাইমটি ডিএনএ-এর আটটি অক্ষর সঠিকভাবে পড়তে ও প্রতিলিপি করতে সক্ষম। তারা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্রায়ো-ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করে দেখেছেন যে, কোষ কীভাবে এই কৃত্রিম অক্ষরগুলোকে চিনে নেয় এবং তা কাজে লাগায়।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, আরএনএ পলিমারেজ প্রাকৃতিকভাবে তৈরি ডিএনএ জোড়া শনাক্ত করার মতোই একই কৌশল ব্যবহার করে এই কৃত্রিম অক্ষরগুলোকে শনাক্ত করে। এমনকি হাইড্রোফবিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন যেসব কৃত্রিম কোডে হাইড্রোজেন বন্ড নেই, সেগুলোর ক্ষেত্রেও এই এনজাইম কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে প্রমাণিত হয়েছে।
এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভবিষ্যতে এমন সব জৈবিক যন্ত্রপাতি বা ওষুধ তৈরি করা সম্ভব হবে, যা প্রকৃতিতে সচরাচর পাওয়া যায় না। এর আগে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে লিভার ক্যানসার কোষ শনাক্তকারী সিনথেটিক ডিএনএ অণু তৈরির প্রাথমিক কাজও সফল হয়েছে। এই গবেষণার ফলাফল নেচার কমিউনিকেশনস এবং পিএনএএস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।