যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণ কিবোর্ডে এমন অনেক কি রয়েছে যা ব্যবহারকারীরা সচরাচর ব্যবহার করেন না, আবার অনেক সময় ভুলবশত চাপ লেগে কাজের বিঘ্ন ঘটে। কিবোর্ডের কার্যকারিতা বাড়াতে এই অব্যবহৃত কি-গুলোকে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ফাংশনে রূপান্তর বা রিম্যাপ করা যেতে পারে।
কিবোর্ড রিম্যাপিংয়ের উপায়
উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের জন্য কিবোর্ডের কি পরিবর্তন করার সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হলো মাইক্রোসফটের ফ্রি পাওয়ার টয়েস (PowerToys) সুইটের অন্তর্গত কিবোর্ড ম্যানেজার। এটি মাইক্রোসফট স্টোর বা গিটহাব থেকে ডাউনলোড করা যায়। কিবোর্ড ম্যানেজার চালু করে ‘রিম্যাপ এ কি’ অপশনে গিয়ে সহজেই নির্দিষ্ট কি-কে অন্য কোনো ফাংশন বা কমান্ডের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব। যেমন, ক্যাপস লক কি-কে ডিলিট কি হিসেবে ব্যবহার করা বা কোনো বিশেষ শর্টকাট কি যেমন কন্ট্রোল+শিফট+ইএসসিতে রূপান্তর করা যায়। এছাড়া কি-এর মাধ্যমে সরাসরি কোনো টেক্সট লেখার সুবিধাও যুক্ত করা সম্ভব।
কেন রিম্যাপিং জরুরি
কিবোর্ডে থাকা ক্যাপস লক, ইনসার্ট, স্ক্রল লক বা পজ/ব্রেক কি-গুলো অনেকের কাছেই অপ্রয়োজনীয়। কেউ যদি ক্যাপস লক বা ইনসার্ট কি খুব একটা ব্যবহার না করেন, তবে সেগুলোকে ব্যাকস্পেস বা ব্রাউজার সার্চের মতো প্রয়োজনীয় কমান্ডে পরিবর্তন করে কাজের গতি বাড়ানো যায়। একই সঙ্গে ফাংশন কি (F1-F12) গুলোর মধ্যে যেগুলো ব্যবহার হয় না, সেগুলোকে মিডিয়া প্লে/পজ বাটনের মতো কাজে লাগানো যেতে পারে।
সতর্কতা ও অন্যান্য টুলস
পাওয়ার টয়েস ব্যবহার করার সুবিধা হলো, এটি সহজেই আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায় এবং এর কার্যক্রম শুধু ব্যবহারকারীর নিজস্ব অ্যাকাউন্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। তবে শার্পকিস-এর (SharpKeys) মতো সফটওয়্যারগুলো উইন্ডোজ রেজিস্ট্রি পরিবর্তন করে কাজ করে, যা সব ব্যবহারকারীর জন্য প্রযোজ্য এবং এটি পরিবর্তন করা তুলনামূলক জটিল। এছাড়া গেমিং কিবোর্ড প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান যেমন লজিটেক বা রেজারের নিজস্ব সফটওয়্যারগুলো নির্দিষ্ট গেমের প্রয়োজনে কি রিম্যাপিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।