যুক্তরাজ্যের কভেন্ট্রিতে অবস্থিত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জগুয়ার ল্যান্ড রোভার (জেএলআর)-এ কয়েক হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কার মুখে ব্যবসায়িক সচিব জোনাথন রেনল্ডস প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। ছাঁটাইয়ের প্রভাব এবং তা কীভাবে কমানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা করতে তিনি জেএলআর-এর পরিচালনা পর্ষদ ও ইউনাইট ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই বৈঠক করবেন।
জেএলআর কর্তৃপক্ষ বিবিসিকে নিশ্চিত করেছে যে, তারা স্বেচ্ছায় অবসরের (ভলানটারি রিডানডেন্সি) সুযোগ চালু করছে। এক বছর আগে ভয়াবহ সাইবার হামলার কারণে কোম্পানির উৎপাদন মাসাধিককাল বন্ধ থাকার পর এটি বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। টাইমস পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুল্ক ও বিক্রি কমে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৪ হাজার কর্মী ছাঁটাই হতে পারে। যদিও কোম্পানিটি সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নিশ্চিত করেনি।
জোনাথন রেনল্ডস বিবিসিকে জানিয়েছেন, তিনি এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প উপায় খুঁজবেন, তবে কোনো অবস্থাতেই কোম্পানিকে সরকারি অনুদান (বেলআউট) দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, জেএলআর ব্রিটিশ অর্থনীতির একটি বড় সাফল্যের নাম। ব্যবসার প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বজায় রাখার জন্য কর্মীদের পুনর্গঠন করার প্রয়োজন হতে পারে। তবে তিনি কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন।
জেএলআর মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানের কাজের প্রক্রিয়া সহজতর করা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারা স্যালারিড এবং ম্যানেজমেন্ট পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছায় অবসরের সুযোগ দিচ্ছে। তবে বাধ্যতামূলক ছাঁটাইয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
ইউনাইট ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শ্যারন গ্রাহাম সতর্ক করে বলেছেন, অটোমোবাইল শিল্প এখন এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ধারাবাহিক সরকারগুলোর অবহেলার কারণে শিল্পটি আজ এই পরিণতির দিকে এগিয়েছে।
জেএলআর বর্তমানে যুক্তরাজ্যে প্রায় ৩০ হাজার এবং বিদেশে আরও ১০ হাজার কর্মী নিয়োগ করে আছে। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে হওয়া সাইবার হামলার কারণে কোম্পানিটি প্রায় ১.৯ বিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল, যার প্রভাবে উৎপাদন ২৭ শতাংশ হ্রাস পায়।