ইকুয়েডরের কুইটো শহরে অবস্থিত পনটিফিসিয়া ইউনিভার্সিডাদ ক্যাটোলিকা ডেল ইকুয়েডরের বিজ্ঞানীরা প্রিস্টিনম্যান্টিস মিলপে নামের একটি নতুন ব্যাঙ প্রজাতির আনুষ্ঠানিক বর্ণনা দিয়েছেন। শত বছর ধরে সাধারণ এই ব্যাঙটিকে অন্য একটি প্রজাতি হিসেবে ভুল করে আসছিলেন গবেষকরা। পনটিফিসিয়া ইউনিভার্সিডাদ ক্যাটোলিকা ডেল ইকুয়েডরের গবেষক সান্তিয়াগো আর. রন এবং তাঁর দলের গবেষণায় এই দীর্ঘদিনের বিভ্রান্তির অবসান ঘটে।
সাধারণত নতুন আবিষ্কৃত প্রজাতিগুলো দুর্লভ বা সীমিত এলাকার হয়ে থাকে। তবে প্রিস্টিনম্যান্টিস মিলপে প্রজাতিটি বেশ পরিচিত এবং এটি ইকুয়েডরের চোকো বন থেকে শুরু করে দক্ষিণ কলম্বিয়া পর্যন্ত প্রায় ৬৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত এদের বিচরণ রয়েছে। এদের রাতকালীন ডাক বেশ জোরালো এবং ‘ক্লিক’ শব্দের মতো।
গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি শত বছর ধরে চলা শ্রেণিবিন্যাসের ত্রুটি দূর করেছে। লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ঊনবিংশ শতাব্দীর ব্যাঙের নমুনার সাথে বর্তমানের জীবন্ত ব্যাঙের শারীরিক গঠন ও বৈশিষ্ট্যের তুলনা করে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন যে, আগেকার শ্রেণিবিন্যাস ভুল ছিল। আন্তর্জাতিক জার্নাল জুকিজ-এ এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে।
প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের গুরুত্ব
এই আবিষ্কারটি প্রমাণ করে যে, শত বছরের পুরনো সংরক্ষিত নমুনাগুলো আধুনিক বিজ্ঞানের গবেষণায় কতটা কার্যকর। অনেক সময় প্রজাতি শনাক্তকরণে আধুনিক গবেষণার সাথে ঐতিহাসিক নমুনার সমন্বয় জরুরি হয়ে পড়ে। প্রিস্টিনম্যান্টিস মিলপে-এর ক্ষেত্রেও ঠিক তা-ই ঘটেছে, যা জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে মানুষের জ্ঞানের পরিধি আরও বিস্তৃত করেছে।