যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা টোব্যাকো হর্নওয়ার্ম প্রজাতির শুঁয়োপোকার শ্রবণ ক্ষমতা এবং শব্দ শোনার রহস্য উদঘাটনে একটি বিশেষ গবেষণায় অংশ নিয়েছেন। আইশ্বর্য শ্রীরাম, ক্যারল মাইলস, রোনাল্ড মাইলস ও সারা আগহাদেহর নেতৃত্বাধীন এই গবেষক দল জানিয়েছেন, কান না থাকা সত্ত্বেও শুঁয়োপোকা কীভাবে তাদের চারপাশের বিপদ বুঝতে পারে এবং শব্দ শনাক্ত করতে পারে, তা খুঁজে বের করাই তাদের মূল লক্ষ্য। এই গবেষণাটি শুধুমাত্র প্রকৃতির রহস্য উন্মোচন করবে না, বরং উন্নত ও সাশ্রয়ী মাইক্রোফোন প্রযুক্তি তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণার পদ্ধতি
গবেষকরা শুঁয়োপোকার শ্রবণ ক্ষমতা পরীক্ষার জন্য একটি শব্দহীন বা অ্যানিকোয়িক চেম্বার ব্যবহার করেছেন। এটি এমন একটি স্থান যা বাইরের কোনো শব্দ বা কম্পন ভেতরে ঢুকতে দেয় না। সেখানে শুঁয়োপোকাকে রেখে বিভিন্ন মাত্রার শব্দ ও কম্পন প্রয়োগ করা হয়। দেখা যায়, একটি নির্দিষ্ট মাত্রার নিচে গেলে শুঁয়োপোকা কম্পনে সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয়, কিন্তু বাতাসের শব্দের ক্ষেত্রে তারা তখনও প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। এতে গবেষকরা নিশ্চিত হন যে, শুঁয়োপোকা বাতাসের শব্দ শুনতে পায়।
শরীরের লোমই কি কান?
গবেষকদের মতে, শুঁয়োপোকার শরীরের ওপর থাকা বিশেষ ধরনের সূক্ষ্ম লোমগুলোই তাদের কান হিসেবে কাজ করে। পরীক্ষার অংশ হিসেবে তারা মাইক্রোস্কোপের নিচে সূক্ষ্ম চিমটি দিয়ে শুঁয়োপোকার শরীর থেকে লোম সরিয়ে ফেলেন। এতে দেখা যায়, লোম অপসারণের পর শব্দে সাড়া দেওয়ার হার নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। তারা এখন পরীক্ষা করছেন কোন ধরনের লোম কোন কম্পাঙ্কের শব্দ শোনার জন্য কার্যকর।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এই গবেষণার ফলাফল কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞানীরা মাইক্রোফোন প্রযুক্তিতে আমূল পরিবর্তন আনার স্বপ্ন দেখছেন। বর্তমানে প্রচলিত মাইক্রোফোন শব্দের চাপ শনাক্ত করে, কিন্তু শুঁয়োপোকার শরীরের লোমের আদলে তৈরি মাইক্রোফোন বাতাসের কণার গতিবেগ মাপতে পারবে। এটি শ্রবণ সহায়ক যন্ত্র বা হিয়ারিং এইডে শব্দের উৎস ও দিক নির্ণয়ে বিশেষ সহায়তা করতে পারে।