যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেট স্মার্টফোনের ব্লুটুথ সবসময় চালু রাখার ঝুঁকির বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। হ্যাকাররা ব্লুটুথের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য চুরি বা আড়িপাতার মতো ঘটনা ঘটাতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্লুটুথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিরাপত্তা ঝুঁকি
ব্লুটুথের মাধ্যমে হ্যান্ডস-ফ্রি কল বা ওয়্যারলেস হেডফোন ব্যবহারের সুবিধা পাওয়া গেলেও এর মাধ্যমে সাইবার হামলার সুযোগ থাকে। ইনসিনুয়েটর (Insinuator)-এর গবেষণায় আইরোহা-ভিত্তিক হার্ডওয়্যারে এমন ত্রুটি পাওয়া গেছে, যা কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা ব্যবহারকারীর কল হিস্ট্রি, কন্টাক্ট নম্বর এবং ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে পারে। এছাড়া ফিটবিটসহ বিভিন্ন ডিভাইসে ব্লুটুথের দুর্বলতা খুঁজে পাওয়ার ঘটনাও নিরাপত্তার বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সুরক্ষার উপায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যবহারের প্রয়োজন না থাকলে ফোনের ব্লুটুথ বন্ধ রাখা সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষাকবচ। এতে ‘ব্লুবাগিং’ বা ‘ব্লুস্নাফিং’-এর মতো সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি কমে যায়। এছাড়া ব্লুটুথ মোডকে ‘ডিসকভারেবল’-এর পরিবর্তে ‘হিডেন’ মোডে রাখলে অপরিচিত ডিভাইসের সংযোগ থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।
গাড়ি ও অন্যান্য ডিভাইসে সতর্কতা
ভাড়া নেওয়া গাড়ি বা নিজের গাড়ি বিক্রির সময় ব্লুটুথ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং ব্যক্তিগত সব তথ্য মুছে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড অটো ব্যবহারের ক্ষেত্রেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লুটুথ চালু হওয়ার সেটিংস বন্ধ রাখা উচিত। আইফোন ব্যবহারকারীদের ‘লাইভ লিসেন’ ফিচারের দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে, কারণ এটি ব্লুটুথ ব্যবহার করে হ্যাকারদের আক্রমণের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
ভবিষ্যৎ সতর্কতা
বিভিন্ন ডিভাইসের নির্দিষ্ট হার্ডওয়্যার ত্রুটির বিষয়ে নিয়মিত আপডেট থাকা প্রয়োজন। বেলজিয়ামের কেইউ লিউভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ১৭টি গুগল ফাস্ট পেয়ার অডিও ডিভাইসে ত্রুটি শনাক্ত করেছিলেন, যা ব্যবহারকারীর লোকেশন ট্র্যাক করতে সক্ষম ছিল। এই ধরনের ঝুঁকি এড়াতে ব্লুটুথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে এফসিসি (FCC)-এর নির্দেশনা মেনে চলা এবং ডিভাইসের নিরাপত্তা সেটিংস নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি।