বাংলাদেশের ঢাকার ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ‘একাডেমিক অ্যান্ড রিসার্চ ইন্টেগ্রিটি কনক্লেভ ২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তারা গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের অনৈতিক ব্যবহারের ফলে জালিয়াতির ঝুঁকি বাড়ার কথা তুলে ধরেছেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান মামুন আহমেদসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা অংশ নেন। প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পৃথক এআই নীতিমালা থাকা জরুরি বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তারা।
টার্নিটিনের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক চৈতালি মিত্র জানান, এআই ব্যবহারের মাধ্যমে ‘পেপার মিল’ চক্র ভুয়া গবেষণাপত্র তৈরির প্রবণতা বাড়াচ্ছে। ২০২০ সালের তুলনায় বর্তমানে গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের হার প্রায় ৮০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এআই ব্যবহার করে মনগড়া তথ্য ও অস্তিত্বহীন উদ্ধৃতি তৈরির ফলে গবেষণার মান ও নির্ভরযোগ্যতা গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান মামুন আহমেদ বলেন, এআইকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা সম্ভব নয়, তবে এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। গবেষণায় এআই ব্যবহারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করতে হবে। তিনি প্রযুক্তি শনাক্তকারী সফটওয়্যারের পাশাপাশি মৌখিক পরীক্ষা এবং গবেষণার খসড়া সংরক্ষণের মতো সনাতন পদ্ধতিগুলো বজায় রাখার ওপর জোর দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক এ এফ এম ইউসুফ হায়দার বলেন, এআই মানুষের চিন্তার বিকল্প হতে পারে না। অতিরিক্ত প্রযুক্তি নির্ভরতা মৌলিক চিন্তার সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। তিনি উচ্চশিক্ষায় এআই ব্যবহারের জন্য ইউজিসির নেতৃত্বে একটি জাতীয় কাঠামো তৈরির প্রস্তাব দেন।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সহ-উপাচার্য অধ্যাপক আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী জানান, এআই শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করলেও মেধাস্বত্ব ও গোপনীয়তার মতো বিষয়গুলো চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি এর সঠিক বাস্তবায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
কনক্লেভে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশেষজ্ঞরা একাডেমিক সততা রক্ষা, লাইব্রেরির ভূমিকা এবং গবেষণার মানোন্নয়নে প্রযুক্তির ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা করেন। বক্তারা পরিশেষে বলেন, এআইকে মানুষের প্রতিস্থাপন হিসেবে নয় বরং সৃজনশীলতা ও জ্ঞান বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করাই এখন সময়ের দাবি।