যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো শহরগুলোতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর শিক্ষা প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিবেদক নাতাশা সিঙ্গার সতর্ক করে বলেছেন, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যেভাবে অতীতে স্কুলের পাঠ্যক্রমে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছিল, এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রেও তারা একই কৌশল অবলম্বন করছে। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ দক্ষতাকে প্রভাবিত করার পাশাপাশি তাদের প্রযুক্তি পণ্যের ভোক্তা হিসেবে গড়ে তুলছে।
প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কৌশল
গত ১৫ বছর ধরে বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো শিক্ষাক্ষেত্রে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে। তারা স্কুলে কোডিং বা কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শেখানোর জন্য বিনামূল্যে পাঠ্যক্রম ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করত। নাতাশা সিঙ্গার তার নতুন বই ‘কোডিং কিডস’-এ দেখিয়েছেন, কীভাবে এই কোম্পানিগুলো শিক্ষার্থীদের উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নিজেদের সফটওয়্যার ও পণ্যের সঙ্গে অভ্যস্ত করে তুলেছে। অ্যাপল, মাইক্রোসফট এবং গুগল সরাসরি স্কুলের পাঠ্যক্রমে নিজেদের পণ্য ও অ্যাপ যুক্ত করেছে।
শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের সচেতনতা
নাতাশা সিঙ্গারের মতে, অতীতে কোডিংয়ের বিস্তারে তেমন বাধা না থাকলেও এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে অনেক অভিভাবক ও শিক্ষক সচেতন হয়েছেন। তারা শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার শেখার বাইরে শিক্ষার্থীদের চিন্তাশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চান। তারা এখন প্রশ্ন তুলছেন, এআই প্রযুক্তি কেবল পণ্য হিসেবে স্কুলে প্রবেশ করছে কি না।
স্কুলগুলোর নতুন পদক্ষেপ
নিউইয়র্ক সিটি গত সপ্তাহে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের স্কুলে এআই ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর পরপরই লস অ্যাঞ্জেলেস হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্যও একই ধরনের বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছে। গবেষকরা বলছেন, কেবল প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞানের বিকাশে সবসময় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না। তাই স্কুলগুলো এখন শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির অন্ধ ব্যবহার না শিখিয়ে বরং প্রযুক্তি কীভাবে সমাজ ও মানুষের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে, সে বিষয়ে সমালোচনামূলক চিন্তা শেখানোর দিকে ঝুঁকছে।