বিশ্বজুড়ে চরম খাদ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে ক্ষুধা দূরীকরণে ইসলামের পাঁচটি বাস্তবমুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে ৮০ কোটিরও বেশি মানুষ প্রতি রাতে অনাহারে ঘুমানোর পরও উদ্বৃত্ত খাবার অপচয়ের মাধ্যমে নষ্ট হচ্ছে। ইসলাম খাদ্য নিরাপত্তাকে মানবাধিকার ও মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নেয়ামত হিসেবে গণ্য করে।
ইসলামের দৃষ্টিতে ক্ষুধা নিবারণের পাঁচটি মৌলিক দিক হলো:
১. খাদ্য সংস্থানকে নিরাপত্তার ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা: ইসলাম খাদ্য নিরাপত্তাকে জীবনের অস্তিত্ব রক্ষার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ মনে করে। কারো যদি সুস্থ শরীর থাকে এবং সারা দিনের আহারের সংস্থান থাকে, তবে সে যেন পুরো পৃথিবী নিজের অধিকারে পেয়ে গেল।
২. কায়িক শ্রমের মর্যাদা: ইসলামে অলসতার কোনো স্থান নেই। শ্রম ও জীবিকা অন্বেষণকে ইবাদতের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। পরিবারের ভরণপোষণ বা অন্যের কাছে হাত পাতা থেকে বাঁচার জন্য করা পরিশ্রমকে আল্লাহর পথে জিহাদের সমতুল্য গণ্য করা হয়।
৩. সক্রিয় জীবিকা অন্বেষণ: ইসলামে আল্লাহর ওপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) মানে অলস বসে থাকা নয়। পাখির মতো সক্রিয় হয়ে জীবিকা সন্ধানে বের হওয়াই ইসলাম নির্দেশিত পথ।
৪. শ্রমিকের ন্যায্য পারিশ্রমিক: উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় যুক্ত মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষা জরুরি। শ্রমিককে কাজ করিয়ে তার ন্যায্য পারিশ্রমিক না দেওয়াকে চরম অন্যায় ও অপরাধ হিসেবে দেখা হয়েছে।
৫. অপচয় রোধ ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাস: বর্তমান খাদ্য সংকটের অন্যতম কারণ খাদ্যের অপচয়। ইসলাম আহার ও পানীয় গ্রহণের ক্ষেত্রে অপচয় করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে এবং পরিমিত খাদ্যাভ্যাসের নির্দেশ দিয়েছে।
মানবিক সহমর্মিতা, হালাল উপার্জনের মেহনত এবং অপচয় রোধের মাধ্যমেই বিশ্ব ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের সংকট থেকে মুক্তি পেতে পারে বলে মত দেওয়া হয়েছে।