যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক জানিয়েছেন, রসায়নের মৌলিক বিষয় ‘ইনডাক্টিভ ইফেক্ট’ বা আবেশিক প্রভাব নিয়ে গত প্রায় ১০০ বছর ধরে পাঠ্যবইগুলোতে ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে। গবেষক ড. মার্ক এলিয়ট ও তাঁর সহযোগীদের মতে, নিরপেক্ষ অণুর ক্ষেত্রে এই প্রভাবটি কেবল একটি রাসায়নিক বন্ধন পর্যন্তই বিস্তৃত থাকে, যা প্রচলিত ধারণার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।
দীর্ঘদিন ধরে রসায়নের পাঠ্যবইগুলোতে পড়ানো হতো যে, অণুর ভেতর কোনো পরমাণুর ইলেকট্রন বিতরণের প্রভাব তিন বা চারটি বন্ধন পর্যন্ত বজায় থাকে এবং দূরত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ধীরে ধীরে ক্ষীণ হতে থাকে। কিন্তু আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধারণাটি সঠিক নয়।
গবেষকদের দাবি, এই নতুন তথ্যটি রসায়ন শিক্ষাকে অনেক বেশি সহজ ও স্পষ্ট করবে। তাঁরা মনে করেন, অণুর গঠন ও রাসায়নিক বিক্রিয়া সঠিকভাবে বুঝতে শিক্ষার্থীদের জন্য এই সংশোধন অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে জৈব রসায়নের ক্ষেত্রে, যেখানে ওষুধের অণু বা নতুন উপকরণের গঠন বোঝার জন্য এই ধারণাটি ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
অস্ট্রেলিয়ার নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয় ও নিউ ইংল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সহায়তায় এই গবেষণাটি সম্পন্ন হয়েছে। তাঁরা বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন তথ্য ও নিজস্ব উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন।
গবেষক ড. মার্ক এলিয়ট বলেন, আগে রসায়নবিদদের কাছে আধুনিক কম্পিউটেশনাল প্রযুক্তি ছিল না, যার ফলে তাঁরা সীমিত তথ্যের ভিত্তিতে কিছু ধারণার জন্ম দিয়েছিলেন। বর্তমান উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে অণুর গঠন ও ইলেকট্রন বিন্যাস সরাসরি পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে।
এই গবেষণার ফলাফল ইতিমধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাদের পাঠ্যক্রম পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছে। রসায়নের এই মৌলিক ধারণাটি সংশোধন করা হলে তা ভবিষ্যতের বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন ও গবেষণায় আরও শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে বলে আশা করছেন গবেষকরা।