অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের ক্লগস গুহায় প্রায় ২৫ হাজার বছর ধরে চলা প্রাচীন আচার-অনুষ্ঠানের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষক ড. এলি গ্রোনো এবং তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন, গানাইকুরনাই আদিবাসী জনগোষ্ঠীর পূর্বপুরুষরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট ঘাস সংগ্রহ করে গুহার ভেতরে নিয়ে আসতেন এবং নির্দিষ্ট স্তরে সাজিয়ে তা পোড়াতেন। এই গবেষণার ফলাফল ফ্রন্টিয়ার্স ইন এনভায়রনমেন্টাল আর্কিওলজি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত এই গবেষণায় গুহার গভীরে থাকা মাটির স্তর থেকে কয়েক হাজার আণুবীক্ষণিক উদ্ভিজ্জ অবশেষ বা ফাইথোলিথ উদ্ধার করা হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই গুহার ভেতরে সূর্যের আলো পৌঁছায় না, তাই সেখানে প্রাকৃতিকভাবে কোনো উদ্ভিদ জন্মানোর সুযোগ নেই। ফলে পাওয়া উদ্ভিদগুলোর অস্তিত্ব প্রমাণ করে যে, মানুষই এগুলো বাইরে থেকে বহন করে এনেছিল।
গবেষণায় প্রায় ৭৩টি ছাইয়ের স্তরের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা প্রায় ৪ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ বছর আগের। এছাড়া গুহার ভেতরে ২ হাজার বছর আগে স্থাপন করা ২৮ সেন্টিমিটার উচ্চতার একটি পাথরের মূর্তিও পাওয়া গেছে, যা এই স্থানটির ধর্মীয় গুরুত্বকে আরও জোরালোভাবে প্রমাণ করে।
গানাইকুরনাই ল্যান্ড অ্যান্ড ওয়াটারস কর্পোরেশনের সহায়তায় চালানো এই খননকাজে জানা যায়, আদিবাসীরা যত্রতত্র ঘাস না তুলে বিশেষ জাতের উদ্ভিদ নির্বাচন করতেন। এই প্রাচীন প্রথা গানাইকুরনাই জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী জাদুকরী ও নিরাময়মূলক আচার-অনুষ্ঠানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ঐতিহাসিকভাবে এই গুহাগুলো ‘মুল্লা-মুল্লাং’ নামে পরিচিত প্রভাবশালী আধ্যাত্মিক সাধকদের কর্মকাণ্ডের স্থান হিসেবে পরিচিত ছিল।