দক্ষিণ কোরিয়ার ওয়ার্ল্ড ইনস্টিটিউট অফ কিমচি কিমচিতে থাকা এক ধরণের ল্যাকটিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়া মানবদেহের অন্ত্র থেকে ন্যানোপ্লাস্টিক দূর করতে সহায়তা করে বলে ঘোষণা করেছে। বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত এই গবেষণাটি জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ন্যানোপ্লাস্টিক হলো এক মাইক্রোমিটারের চেয়েও ছোট প্লাস্টিক কণা, যা খাবারের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে। ক্ষুদ্র আকারের কারণে এগুলো অন্ত্রের বাধা পেরিয়ে কিডনি বা মস্তিষ্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জমা হতে পারে। ড. সে হি লি এবং ড. তে উং হোনের নেতৃত্বাধীন একটি গবেষক দল ‘লিউকোনোস্টক মেসেন্টারয়েডিস সিবিএ৩৬৫৬’ নামক ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতা পরীক্ষা করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম মানব অন্ত্রের পরিবেশে এই ব্যাকটেরিয়াটি ৫৭ শতাংশ ন্যানোপ্লাস্টিক শোষণ করতে সক্ষম। এছাড়া ইঁদুরের ওপর চালানো পরীক্ষায় দেখা যায়, যেসব ইঁদুরকে এই প্রোবায়োটিক দেওয়া হয়েছিল, তাদের মলের সাথে ন্যানোপ্লাস্টিক নিঃসরণের হার সাধারণের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
প্রধান গবেষক ড. সে হি লি জানিয়েছেন, প্লাস্টিক দূষণ বর্তমানে একটি বড় জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ। কিমচির মতো ঐতিহ্যবাহী গাঁজানো খাবার থেকে পাওয়া অণুজীবগুলো শরীরের ভেতর থেকে প্লাস্টিক কণা দূর করার নতুন ও কার্যকর উপায় হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই গবেষণা ভবিষ্যতে প্লাস্টিক দূষণজনিত ঝুঁকি কমাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।