ঢাকাThursday , 17 September 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

দ্রুত বার্ধক্যের কারণ হিসেবে ইমিউন সিস্টেমের ‘ভুল সংকেত’ শনাক্ত করলেন বিজ্ঞানীরা


September 17, 2026 5:15 am
Link Copied!

ইসরায়েলের জেরুজালেমের হিব্রু ইউনিভার্সিটির গবেষকরা দ্রুত বার্ধক্যের কারণ হিসেবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার এক ধরনের ভুল সংকেতকে চিহ্নিত করেছেন। ড. মারভা বার্গম্যান এবং অধ্যাপক ইতামার হ্যারেলের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হলে শরীর অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখায়, যা বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এই আবিষ্কারটি বার্ধক্যজনিত রোগ চিকিৎসার ক্ষেত্রে নতুন পথের সন্ধান দিতে পারে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার কিছু অংশ ভুলবশত কোষের সাইটোসলে চলে আসে। এ সময় ‘সিজিএএস’ (cGAS) নামক একটি ইমিউন সেন্সর এই ডিএনএ টুকরোগুলোকে ভাইরাসের আক্রমণ হিসেবে ভুল করে। এর ফলে শরীরে দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহের সৃষ্টি হয়, যা স্বাস্থ্যকর টিস্যুর ক্ষতি করে এবং ডিএনএ মেরামতের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকেও বাধাগ্রস্ত করে।

অ্যাটাক্সিয়া-টেলানজিয়েকটাশিয়া এবং ব্লুম সিনড্রোমের মতো বিরল জিনগত রোগের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। সাধারণত গবেষকরা মনে করতেন, ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াই কোষের অকার্যকারিতার প্রধান কারণ। তবে বর্তমান গবেষণা বলছে, ডিএনএ ক্ষতির চেয়ে বরং সেই ক্ষতির বিপরীতে শরীরের ভুল ইমিউন প্রতিক্রিয়া বেশি ক্ষতিকর ভূমিকা পালন করে।

গবেষকরা তাদের পরীক্ষায় সিজিএএস সেন্সরের কার্যক্রম কমিয়ে দিয়ে দেখেছেন যে, এর ফলে নিউরোইনফ্লেমেশন বা স্নায়ুর প্রদাহ কমেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুর কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারলে মারাত্মক জিনগত রোগ মোকাবিলা করা সহজ হতে পারে।

তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, সিজিএএস সেন্সর শরীরকে ভাইরাস থেকে রক্ষা করতেও সহায়তা করে। তাই এই প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। ভবিষ্যতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে বার্ধক্যজনিত অন্যান্য জটিল রোগের চিকিৎসায় কার্যকর ওষুধ তৈরির সম্ভাবনা দেখছেন গবেষকরা।