বাংলাদেশের ঢাকা শহরের এক বহুতল ভবনের বাসিন্দারা লোডশেডিংয়ের সময় পার্কিং লটে পানি এবং সেখানে মাছের বিচরণ দেখতে পান। এই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন গল্পের প্রধান চরিত্র, যার বাবা দুই দশক আগে ট্রাক ট্রাক বালু ফেলে এই খাল ভরাট করে আবাসন গড়ে তুলেছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি স্থানীয় দারোয়ান নিজাম চাচার মাধ্যমে প্রথম প্রকাশ্যে আসে, যিনি জানান কারেন্ট চলে গেলেই শহর তার পুরনো রূপ ফিরে পায়।
গল্পে দেখা যায়, কারেন্ট গেলে কেবল পার্কিংয়ে পানিই জমে না, বরং শহরের বুক থেকে হারিয়ে যাওয়া খালের অতীতে ঘটে যাওয়া নানা মর্মান্তিক স্মৃতিও জেগে ওঠে। দারোয়ান নিজাম চাচা হারিয়ে যাওয়া ছেলের জুতোর খোঁজে সেখানে জাল ফেলেন। আবার মায়ের স্মৃতিতেও ফিরে আসে তার বড় ভাইয়ের এই খালে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা। এক পর্যায়ে লোডশেডিংয়ের রাতে নিখোঁজ হয়ে যায় ফ্ল্যাটের এক ছোট শিশু, যাকে উদ্ধার করতে গিয়েই গল্পের মূল চরিত্র ও তার বাবার উপলব্ধিতে পরিবর্তন আসে।
গল্পের এক পর্যায়ে জাতীয় গ্রিড বিপর্যয়ের ফলে পুরো ঢাকা শহর দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। সে সময় শহরজুড়ে পানি ও ব্যাঙের ডাক শোনা যায়, যা অনেকটা প্রাকৃতিক পুরনো ঢাকার রূপ মনে করিয়ে দেয়। এই ঘটনায় খালের ওপর গড়ে ওঠা শহরটি নিজের আদি সত্তা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করে। শেষে দেখা যায়, যারা একসময় খাল ভরাট করে অর্থ উপার্জন করেছিলেন, তারা পরিস্থিতির চাপে নিজেদের কৃতকর্মের ভয়াবহতা বুঝতে পারেন এবং অনুশোচনা করেন।