যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের র্যাপার ফেনিক্স ফ্লেক্সিনের ‘রাবার্জ’ গানটি বিলবোর্ড হট ১০০ তালিকায় ৫৮তম অবস্থানে জায়গা করে নেওয়ার পর থেকেই গানটির উৎস নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। অনেকে অভিযোগ করেছেন, গানটি পুরোপুরি বা আংশিকভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। যদিও ফেনিক্স এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, কিন্তু তার অস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও লাইভ পরিবেশনা সন্দেহ দূর করতে ব্যর্থ হয়েছে।
গানটির অডিও গুণমান নিয়ে বিশেষজ্ঞরা ত্রুটিপূর্ণ ডিজিটাল আর্টিফ্যাক্ট বা শব্দ বিকৃতির ইঙ্গিত পেয়েছেন, যা সাধারণত এআই দিয়ে তৈরি সংগীতের ক্ষেত্রে দেখা যায়। গানটির রিভার্ব ও ভোকাল মেলোডিতে অসংলগ্নতা রয়েছে। সংগীত বিশেষজ্ঞ চার্লি হার্ডিংয়ের মতে, এতে থাকা যান্ত্রিক ত্রুটিগুলো কোনো উন্নত মানের রেকর্ডিংয়ের লক্ষণ নয়।
গানটির লিরিক্স বা কথা নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। এলিমেন্টগুলো অনেকটা অর্থহীন ও এলোমেলো, যা সাধারণত জেনারেটিভ এআই মডেলের আউটপুটকে নির্দেশ করে। এছাড়া গানটির কাভার আর্ট এবং প্রচারণামূলক পোস্টগুলোও এআই ডিটেক্টরে কৃত্রিমভাবে তৈরির উচ্চ সম্ভাবনা নির্দেশ করেছে।
লাইভ কনসার্টগুলোতে ফেনিক্সের অসংলগ্ন পরিবেশনা সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মঞ্চে গান গাওয়ার সময় তাকে লিপ-সিঙ্কিং করতে দেখা গেছে এবং মূল অডিওর সাথে তার কণ্ঠের বিস্তর ফারাক স্পষ্ট ধরা পড়েছে। ফেনিক্স দাবি করেছেন, এগুলো ভয়েস প্রসেসিং বা অটোটিউনের কারণে হয়েছে, তবে বিশেষজ্ঞ ও সংগীত বিশ্লেষকরা এই যুক্তি গ্রহণ করেননি।
ফেনিক্স দাবি করেছেন যে তার কাছে প্রজেক্ট ফাইল রয়েছে, কিন্তু তা প্রকাশ্যে না আনায় গানটির সত্যতা নিয়ে বিতর্ক কাটছে না। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি গানটি এআই দিয়ে তৈরি হয়েও থাকে, তবে তা বেশ নিম্নমানের কোনো মডেল ব্যবহার করে করা হয়েছে।