যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আয়োজিত এবারের রিম্প্যাক (RIMPAC) নৌ-মহড়াকে সামরিক প্রযুক্তির বিশাল এক পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। মার্কিন তৃতীয় নৌবহরের ডেপুটি কমান্ডার ও রিম্প্যাক কম্বাইন্ড এক্সারসাইজ কন্ট্রোল গ্রুপের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল সুজান এম. বেইলি জানিয়েছেন, এই মহড়াটি নৌবাহিনীর জন্য ফ্লিট এক্সপেরিমেন্টেশন বা নৌ-বহরের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।
গত ২৪ জুন শুরু হওয়া এই মহড়ায় ৩০টি দেশের ৩০টি যুদ্ধজাহাজ, পাঁচটি সাবমেরিন, দুই শতাধিক বিমান এবং প্রায় ৩০ হাজার নৌ-সদস্য অংশ নিয়েছেন। বেইলি বলেন, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সম্মিলিত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানুষের নিয়ন্ত্রিত ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানোই এর মূল লক্ষ্য।
ফ্লিট এক্সপেরিমেন্টেশন (FLEX) প্রোগ্রামের আওতায় এবারের মহড়ায় প্রায় ৪০টি উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উন্নত উৎপাদন বা অ্যাডভান্সড ম্যানুফ্যাকচারিং প্রদর্শনী অন্যতম। এছাড়া দূরনিয়ন্ত্রিত বা আনক্রুড সারফেস ভেসেল থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ এবং থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধের মাঠে সরাসরি যন্ত্রাংশ তৈরির সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা দপ্তর ও নৌবাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত এসব পরীক্ষার উদ্দেশ্য হলো, ল্যাবরেটরির বাইরে বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের জটিল পরিস্থিতিতে নতুন প্রযুক্তির সক্ষমতা যাচাই করা। এই মহড়ার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রতিক্রিয়া থেকে ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে।