ঢাকাTuesday , 13 October 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

৫,৩০০ বছরের পুরোনো ‘আইসম্যান’ ওৎজির দেহে এখনো টিকে আছে জীবন্ত অণুজীব

Truth Post
August 7, 2026 11:15 pm
Link Copied!

ইতালির দক্ষিণ টাইরল প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরে সংরক্ষিত ৫,৩০০ বছর আগের মমি ‘ওৎজি দ্য আইসম্যান’-এর শরীরে অপ্রত্যাশিতভাবে জীবিত অণুজীবের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ইউরাক রিসার্চের গবেষকরা জানিয়েছেন, ওৎজি কেবল একটি প্রাচীন মমি নয়, বরং এটি একটি মাইক্রোবিয়াল টাইম ক্যাপসুল যা হাজার বছর ধরে হিমবাহের ঠাণ্ডায় টিকে থাকা অণুজীবগুলোকে ধারণ করে আছে।

গবেষকরা মমির বিভিন্ন অংশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছেন। তাদের বিশ্লেষণে ওৎজির শরীরের অভ্যন্তরীণ অংশে তার জীবদ্দশায় থাকা অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, মমির শরীরে এমন কিছু ইস্ট বা ছত্রাক প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গেছে, যা হিমবাহের পরিবেশে টিকে থাকতে অভ্যস্ত এবং ওৎজির মৃত্যুর হাজার বছর পরও এখনো জীবিত রয়েছে।

ইউরাক রিসার্চের ইনস্টিটিউট ফর মামি স্টাডিজের পরিচালক ফ্রাঙ্ক মিক্সনার বলেন, এগুলো কোনো সাধারণ জৈবিক অবশেষ নয়। বরং এই ইস্টগুলো হাজার বছরের দীর্ঘ যাত্রায় ওৎজির সঙ্গেই ছিল। মমিটি একটি স্থির বস্তু নয়, বরং একটি গতিশীল জৈবিক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গবেষকদের ধারণা, ওৎজি উদ্ধার হওয়ার পর তার পৃষ্ঠভাগের ছত্রাক পরিষ্কার করতে যে ফেনল ব্যবহার করা হয়েছিল, এই ইস্টগুলোর কয়েকটি সেই ফেনলকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছে। মাইক্রোবায়োম জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, মমি সংরক্ষণের বর্তমান পরিস্থিতি যেমন মাইনাস ৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা ও উচ্চ আর্দ্রতা, এই অণুজীবগুলোর টিকে থাকার জন্য সহায়ক হতে পারে।

এই অণুজীবগুলো ভবিষ্যতে শিল্প কারখানায় কাজে লাগানোর সম্ভাবনা দেখছেন বিজ্ঞানীরা। বিশেষ করে ঠাণ্ডা পরিবেশে যে সকল শিল্প প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, সেখানে এই ধরনের অণুজীব ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। ওৎজির শরীর রক্ষার দায়িত্বে থাকা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মমির বর্তমান সংরক্ষণ অবস্থা বেশ স্থিতিশীল, তবে ভবিষ্যতে একে আরও দীর্ঘকাল অক্ষত রাখতে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।