বাংলাদেশের ঢাকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সোমবার সকাল ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি বছরের এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এই ফলাফল দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলে, কারণ এবার পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশে নেমে এসেছে। গত বছর এই হার ছিল ৬৮.৪৫ শতাংশ।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় পাসের হার ৬.২০ শতাংশ কমেছে। জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও এবার কমেছে। এ বছর ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যেখানে গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। অর্থাৎ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২২ হাজার ৩৫৬ জন কমেছে।
সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ। সব বোর্ডের মধ্যে ঢাকা বোর্ডে পাসের হার সর্বোচ্চ ৭১.৬৩ শতাংশ। এছাড়া যশোর বোর্ডে ৬৬.২৭ শতাংশ, কুমিল্লায় ৬৫.৪২ শতাংশ, রাজশাহীতে ৬৩.৬৭ শতাংশ, বরিশালে ৬০.৩৫ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৫৯.৪৮ শতাংশ, সিলেটে ৫৮.৩৩ শতাংশ, দিনাজপুরে ৫৮.০৫ শতাংশ এবং ময়মনসিংহে ৫৭.৩৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৫৫.৪৯ শতাংশ এবং কারিগরি বোর্ডে ৫৮.২০ শতাংশ।
পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট (https://eduboardresults.gov.bd এবং https://educationboardresults.gov.bd) থেকে তাদের ফলাফল জানতে পারবে। এছাড়া মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়েও ফলাফল সংগ্রহ করা যাবে। ১৬১৪০ অথবা ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে ফল জানার নিয়ম শিক্ষা বোর্ড থেকে জানানো হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ইআইআইএন (EIIN) ব্যবহার করে ওয়েবসাইট থেকে রেজাল্ট শিট ডাউনলোড করতে পারবে।
উল্লেখ্য, গত ২১ এপ্রিল শুরু হয়ে ২০ মে পর্যন্ত এসএসসি ও সমমানের তত্ত্বীয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ৭ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী এবারের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।