যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় আর্থগ্রিড কোম্পানির উদ্ভাবনী টানেল বোরিং মেশিনের সফল পরীক্ষার মাধ্যমে মাটির নিচে অবকাঠামো নির্মাণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আর্থগ্রিডের প্রধান নির্বাহী ট্রয় হেলমিং জানান, প্লাজমা টর্চ ব্যবহার করে কঠিন গ্রানাইট পাথর কেটে সুড়ঙ্গ তৈরির এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ড্রোন হামলার ঝুঁকি থেকে বাঁচতে এবং গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন মাটির নিচে স্থাপনা তৈরির দিকে ঝুঁকছে।
প্রকৌশলীদের মতে, উপরে থাকা অবকাঠামোগুলো যুদ্ধের সময় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় ইতালির ডলোমাইট পর্বতের ১০০ মিটার গভীরে ট্রেন্টিনো ডেটা মাইন নামের একটি ডেটা সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। পাহাড়ের প্রাকৃতিক শীতল পরিবেশ ব্যবহারের পাশাপাশি এটি ভূমিকম্প ও ইলেকট্রোম্যাগনেটিক হস্তক্ষেপ থেকে服务器গুলোকে বাড়তি সুরক্ষা দিচ্ছে। একইভাবে সমুদ্রের তলদেশে ইন্টারনেট ক্যাবলও এখন অনেক বেশি গভীরে প্রোথিত করা হচ্ছে, যাতে নোঙর বা অন্যান্য কারণে তা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
তবে মাটির নিচে অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাটির উপরের তুলনায় সুড়ঙ্গ তৈরি বা ভূগর্ভস্থ স্থাপনা নির্মাণ কয়েক গুণ বেশি ব্যয়বহুল। লন্ডনের পাওয়ার টানেল প্রকল্পের মতো জনবহুল শহরে এটি প্রয়োজনীয় হলেও সর্বত্র এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। ফলে কেবল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকেই আপাতত ভূগর্ভস্থ করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে রাশিয়া সীমান্তবর্তী দেশগুলো তাদের জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো সুরক্ষায় মাটির নিচের সুড়ঙ্গ প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রতি বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছে। আধুনিক লেজার গাইডেড সিস্টেম ও জাইরোস্কোপের সাহায্যে এখন আগের চেয়ে নিখুঁতভাবে সুড়ঙ্গ খনন করা সম্ভব হচ্ছে, যা এই শিল্পে নতুন গতি এনেছে।