বাংলাদেশের কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং অনিয়ন্ত্রিত কীটনাশকের ব্যবহার এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ সমীরণ বিশ্বাস জানিয়েছেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের আধুনিক প্রযুক্তি—যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), বিগ ডেটা এবং ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব। কৃষি এখন আর কেবল উৎপাদননির্ভর নয়, বরং তথ্যনির্ভর ও বিজ্ঞানসম্মত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে কৃষকরা অনেক ক্ষেত্রে রোগ-বালাই শনাক্তকরণে সঠিক তথ্যের অভাবে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করেন, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশের ক্ষতি ডেকে আনে। এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তি ‘ডা. চাষী’র মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কৃষক এখন ফসলের ছবি তুলেই রোগের কারণ ও করণীয় সম্পর্কে দ্রুত ধারণা পাচ্ছেন। এতে ‘আগে ওষুধ, পরে রোগ’—এই প্রচলিত ধারার বদলে ‘আগে শনাক্তকরণ, পরে ব্যবস্থাপনা’ পদ্ধতি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। তবে এআই পরামর্শের পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
আবহাওয়া ও মাটির পুষ্টি ব্যবস্থাপনায়ও প্রযুক্তি বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। আইওটি সয়েল সেন্সর ব্যবহারের মাধ্যমে মাটির প্রকৃত পুষ্টি চাহিদা জানা সম্ভব হচ্ছে, যা সার ব্যবহারের অপচয় কমিয়ে সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করছে। এছাড়া আবহাওয়ার আগাম পূর্বাভাস পাওয়ার ফলে কৃষক এখন ঝড় বা তাপপ্রবাহের আগেই প্রয়োজনীয় আগাম প্রস্তুতি নিতে পারছেন।
ভবিষ্যৎ কৃষির মূল লক্ষ্য হলো উৎপাদন বাড়ানো পাশাপাশি মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করা এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধি করা। সমীরণ বিশ্বাস জানান, এআই, আইওটি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই ডিজিটাল কৃষি ইকোসিস্টেম বা স্মার্ট কৃষি পদ্ধতি বাংলাদেশের কৃষিখাতকে আগামী দিনে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। এতে কৃষক নিজেই নিজের কৃষি ব্যবস্থাপনায় আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবেন।