যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, আরভিনের গবেষকরা গ্রিনল্যান্ড শার্কের চোখ নিয়ে নতুন এক গবেষণায় বিস্ময়কর তথ্য উন্মোচন করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, এই প্রজাতির শার্ক প্রায় ৪০০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে এবং এই দীর্ঘ সময়েও তাদের দৃষ্টিশক্তি খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। শার্কের রেটিনাতে বয়সের ক্ষতিকর প্রভাব না পড়ার বিষয়টি বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
গবেষক দলের প্রধান ডোরোটা স্কোভ্রনস্কা-ক্রাউজিক জানান, এতদিন ধারণা করা হতো যে, পরজীবী সংক্রমণ এবং সমুদ্রের অন্ধকার পরিবেশের কারণে গ্রিনল্যান্ড শার্ক দৃষ্টিশক্তিহীন। কিন্তু নতুন পরীক্ষায় দেখা গেছে, তারা আলোর গতিবিধি অনুসরণ করতে পারে। মেরু অঞ্চলের সমুদ্রের গভীর ও অন্ধকার স্তরে টিকে থাকার জন্য তাদের চোখে বিশেষ প্রোটিন অভিযোজন ঘটেছে, যা নীল আলোকে কার্যকরভাবে শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড শার্কের চোখে কোনো রেটিনাল কোষের ক্ষয় বা মৃত্যুর প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এর পেছনে তাদের শরীরের এক বিশেষ ডিএনএ মেরামতের প্রক্রিয়া কাজ করে বলে মনে করা হচ্ছে, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী চোখকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।
নেচার কমিউনিকেশনস জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণার ফলাফল দৃষ্টিশক্তি এবং বার্ধক্যজনিত রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। গবেষকরা আশা করছেন, শার্কের চোখের এই দীর্ঘস্থায়ী কার্যক্ষমতার প্রক্রিয়াটি ভবিষ্যতে মানুষের চোখের রোগ যেমন ম্যাকুলার ডিজেনারেশন বা গ্লুকোমা চিকিৎসায় নতুন কৌশল উদ্ভাবনে সহায়ক হবে।