যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের প্লাইমাউথ সুপেরিয়র কোর্টের বাইরে লিন্ডসে ক্ল্যানসির বিচারের সমাপ্তি পর্যায়ে তার সমর্থনে শত শত মানুষ জড়ো হয়েছেন। ছয় সন্তানের জননী বেথানি ম্যান্ডেলসহ অনেকেই মনে করেন, এই পুরো প্রক্রিয়ায় মূল ভুক্তভোগী সেই তিন শিশু—কোরা, ডসন এবং ক্যালান—যাদের নাম প্রায় বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে গেছে। ম্যাসাচুসেটসের ডাক্সবারিতে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে নিজের তিন সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে ৩৬ বছর বয়সী লিন্ডসে ক্ল্যানসির বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রি হত্যার তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালতের বাইরে লিন্ডসের সমর্থনে গোলাপী রঙের পোশাক পরে জড়ো হওয়া জনতা মূলত প্রসূতি মানসিক স্বাস্থ্য এবং সন্তান প্রসব-পরবর্তী মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত মায়েদের সচেতনতার কথা বলছেন। তবে বেথানি ম্যান্ডেল মনে করেন, এই জনসমর্থনের ভিড়ে নিহত শিশুদের কথা কেউ বলছে না। তিনি বলেন, সবাই লিন্ডসের নাম জানলেও, তার হাতে প্রাণ হারানো তিন শিশুর নাম খুব কম মানুষই জানে। আদালতের সামনে জড়ো হওয়া মানুষের হাতে নিহত শিশুদের ছবি বা তাদের স্মরণের কোনো চিহ্ন চোখে পড়ছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসের ডেপুটি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জোনাথন হাতামিও একই উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তার মতে, পুরো বিচারপ্রক্রিয়া এখন কেবল অভিযুক্ত লিন্ডসেকে ঘিরে একটি শো-তে পরিণত হয়েছে, যেখানে ভুক্তভোগী শিশুদের ওপর থেকে মনোযোগ সরে গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত হতাশাজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আইনি লড়াই ও পরবর্তী ধাপ
প্রসিকিউশন তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেছে এবং বর্তমানে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের যুক্তি উপস্থাপন করছেন। তাদের দাবি, সন্তানদের হত্যার সময় লিন্ডসে ‘পোস্টপার্টাম সাইকোসিস’ বা প্রসব-পরবর্তী মানসিক বিকারে আক্রান্ত ছিলেন। সাক্ষ্যদানকারী ফরেনসিক সাইকিয়াট্রিস্ট ড. ফিলিপ রেসনিক জানিয়েছেন, ঘটনার দিন লিন্ডসে হ্যালুসিনেশনের শিকার হয়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন। তবে অন্য বিশেষজ্ঞ ড. আব্রাম ম্যাকের দাবি, লিন্ডসের কাজগুলো ছিল সুপরিকল্পিত এবং তার অপরাধের দায়ভার থাকা উচিত। যদি আদালত তাকে মানসিকভাবে অসুস্থ বলে রায় দেয়, তবে তিনি মুক্ত হবেন না, বরং তাকে একটি সরকারি মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হবে এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। খুব দ্রুতই সমাপনী যুক্তিতর্ক শেষে জুরিদের চূড়ান্ত রায় দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।