বাংলাদেশের ঢাকার মহাখালীতে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)-এর সাসাকাওয়া মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে উপকূলীয় এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল তুলে ধরেন জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী আলিয়া নাহিদ। অনুষ্ঠানে তিনি জানান, উপকূলীয় অঞ্চলের ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রতি পাঁচজনের একজন আগামী ১০ বছরে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার ঝুঁকিতে রয়েছেন। গবেষণায় পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে জনস্বাস্থ্যের এই ঝুঁকিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গবেষণাটি খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ৭১টি কমিউনিটি ক্লিনিকের আওতাধীন ১৭২টি গ্রামে পরিচালিত হয়েছে। গবেষকরা ওই দুই উপজেলার ২৭ হাজার ৬৯৭টি পানির উৎস পরীক্ষা করেন, যার মধ্যে প্রায় এক-চতুর্থাংশ উৎস থেকে সংগৃহীত পানি মানুষ পান করছে। জরিপে দেখা গেছে, খাবার পানির উৎসে কয়রায় ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ এবং আশাশুনিতে ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ লবণাক্ততা বিদ্যমান।
স্বাস্থ্যঝুঁকির মূল্যায়নে দেখা যায়, ওই দুই উপজেলার ১৫ হাজার ৪৭১ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ২১ দশমিক ৬ শতাংশের আগামী ১০ বছরে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর মধ্যে কয়রায় এই হার ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবং আশাশুনিতে ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ। যদিও গবেষকরা পানির লবণাক্ততাকে সরাসরি এই ঝুঁকির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেননি, তবে দীর্ঘমেয়াদে খনিজ উপাদানের প্রভাব খতিয়ে দেখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক পাওলো ভিইনিস ও অ্যাড্রিয়ান বাটলার খাবার পানিতে সোডিয়াম ও অন্যান্য খনিজ উপাদানের স্বাস্থ্যগত প্রভাব নির্ধারণে উপযুক্ত নির্দেশিকা তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া দুর্যোগের পর পানির উৎস পরিষ্কার রাখা এবং উপকূলীয় বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।
আইসিডিডিআর,বি-এর নির্বাহী পরিচালক তাহমিদ আহমেদ জানান, উপকূলের স্বাস্থ্য সমস্যা প্রকট হচ্ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, পুকুরের পানি ফিল্টার ব্যবস্থাপনা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস স্ক্রিনিংয়ের মতো কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানম বলেন, উপকূলের খাবার পানির লবণাক্ততা এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়টি মোকাবিলায় পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার খাতের আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় অপরিহার্য।