ঢাকাWednesday , 26 August 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন আশা: ন্যাচারাল কিলার সেলের বিশেষ রূপান্তর


August 25, 2026 11:15 pm
Link Copied!

যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড মেডিসিনের গবেষকরা ন্যাচারাল কিলার (এনকে) সেলের একটি বিশেষ সংস্করণ উদ্ভাবন করেছেন, যা কঠিন টিউমার ভেদ করে ভেতরে ঢুকে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জন সানউ ও তার সহকর্মীরা এই পদ্ধতিটি উদ্ভাবন করেছেন, যা ক্যান্সার চিকিৎসায় এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করেছে। গবেষক দলের দাবি, এই পদ্ধতিটি প্রয়োগ করলে ক্যান্সার রোগীদের জন্য সেল থেরাপি অনেক বেশি সহজলভ্য হবে।

গবেষণা পদ্ধতি
সাধারণত রক্তে থাকা এনকে কোষগুলো শরীরের বিভিন্ন স্থানে সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করে। তবে কঠিন টিউমারের ক্ষেত্রে এগুলো খুব একটা কার্যকর হয় না। গবেষকরা ল্যাবরেটরিতে বিশেষ কিছু সিগন্যাল ব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ এনকে কোষগুলোকে টিস্যু-রেসিডেন্ট কোষে রূপান্তরিত করেছেন। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এই রূপান্তরিত কোষগুলো কঠিন টিউমারের ভেতরে প্রবেশ করে অত্যন্ত আক্রমণাত্মকভাবে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে।

ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা
গবেষণায় দেখা গেছে, মেলানোমা এবং মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত ইঁদুরের শরীরে এই রূপান্তরিত কোষগুলো প্রয়োগ করলে টিউমারের বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। বিশেষ করে সেটুক্সিম্যাব (cetuximab) নামক অ্যান্টিবডি ড্রাগের সঙ্গে এই থেরাপি ব্যবহার করলে তা আরও বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

কেন এই থেরাপি গুরুত্বপূর্ণ
বর্তমানে অধিকাংশ সেল থেরাপির জন্য রোগীর শরীর থেকে কোষ সংগ্রহ করে তা আলাদাভাবে তৈরি করতে হয়, যা বেশ সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। কিন্তু এই নতুন পদ্ধতিতে ন্যাচারাল কিলার সেলগুলো অন্যের শরীর থেকে সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা সম্ভব। এটি অনেকটা অফ-দ্য-শেলফ ওষুধের মতো কাজ করবে, যা ফ্রোজেন বা সংরক্ষিত অবস্থায় রাখা যাবে এবং প্রয়োজনের সময় দ্রুত রোগীদের দেওয়া যাবে।

পরবর্তী পদক্ষেপ
গবেষকরা এখন এই থেরাপি মানুষের ওপর পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ অ্যাডভান্সড স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমাতে আক্রান্ত রোগীদের ওপর প্রথম পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হতে পারে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে একটি দাতার কোষ থেকে প্রায় ২০টি ডোজ তৈরি করা সম্ভব, যা চিকিৎসাক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।