যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের নিউ হেভেনে অবস্থিত ইয়েল স্কুল অব মেডিসিনের গবেষকরা জানিয়েছেন, শরীরে সি৩ (Complement Component 3) নামক একটি ইমিউন প্রোটিনের কার্যকারিতা কমিয়ে বার্ধক্যজনিত দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ হ্রাস করা সম্ভব। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কারটি এমন নতুন চিকিৎসার পথ তৈরি করতে পারে যা মানুষকে কঠোর ডায়েট বা ক্যালরি নিয়ন্ত্রণের কষ্ট ছাড়াই দীর্ঘমেয়াদী সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে। নেচার এজিং জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রটি বার্ধক্য প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন ধারনার জন্ম দিয়েছে।
গবেষণার পটভূমি
দীর্ঘদিন ধরেই ক্যালরি সীমাবদ্ধ ডায়েট প্রাণীদের আয়ু বাড়াতে এবং তাদের সুস্থ রাখতে সহায়ক হিসেবে পরিচিত। তবে মানুষের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন এবং এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ও বার্ধক্য বিষয়ক গবেষণাকেন্দ্রের পরিচালক বিশ্বদীপ দিক্ষিত জানান, বার্ধক্য একটি পরিবর্তনযোগ্য প্রক্রিয়া এবং একে নির্দিষ্ট লক্ষ্যের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
মূল প্রক্রিয়া ও കണ്ടെത്ത
গবেষক দলটি ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের (CALERIE) ৪২ জন অংশগ্রহণকারীর রক্ত পরীক্ষা করে ৭ হাজারের বেশি প্রোটিন বিশ্লেষণ করেছেন। তারা লক্ষ্য করেন যে, ক্যালরি সীমাবদ্ধ ডায়েট মেনে চলার ফলে শরীরে সি৩ প্রোটিনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। এই প্রোটিনটি মূলত শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সাথে যুক্ত এবং এটি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরিতে ভূমিকা রাখে, যা বার্ধক্যের অন্যতম লক্ষণ।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, চর্বিযুক্ত কোষে (অ্যাডিপোজ টিস্যু) ম্যাক্রোফেজ নামক কোষ থেকে এই সি৩ প্রোটিন উৎপন্ন হয়। ইঁদুরের ওপর চালানো পরীক্ষায় দেখা গেছে, সি৩-এর সক্রিয়তা বাধাগ্রস্ত করার ফলে তাদের মধ্যে বার্ধক্যজনিত প্রদাহ কমেছে। মজার বিষয় হলো, এই প্রোটিনের মাত্রা হ্রাস পাওয়া মূলত ক্যালরি নিয়ন্ত্রণের সাথে সম্পর্কিত, যা শরীরের ওজন হ্রাসের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল নয়। অর্থাৎ ওজন না কমিয়েও ওষুধের মাধ্যমে এই প্রোটিন নিয়ন্ত্রণ করে বার্ধক্যজনিত জটিলতা কমানো যেতে পারে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
গবেষকরা এখন এমন সব ওষুধ নিয়ে কাজ করছেন যা বিদ্যমান এফডিএ (FDA) অনুমোদিত হতে পারে এবং মানবদেহে সি৩ প্রোটিনের উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অটুট রাখতে সি৩-এর ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি, একে পুরোপুরি নির্মূল করা উদ্দেশ্য নয়। মূলত বার্ধক্যজনিত প্রদাহ কমিয়ে দীর্ঘ সময় সুস্থ থাকাই এই গবেষণার মূল লক্ষ্য।