যুক্তরাজ্যের ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রায় ৯ লাখ ৮১ হাজার তরুণ বর্তমানে শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছে, যা ওই বয়সী প্রতি আটজনের মধ্যে একজনের প্রতিনিধিত্ব করে। অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের (ওএনএস) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত এই পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে সরকার, কারণ শীঘ্রই প্রাক্তন মন্ত্রী অ্যালান মিলবার্নের একটি বড় প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে যাচ্ছে, যেখানে তরুণদের এই কর্মহীনতা দূর করার সুপারিশ থাকবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় কর্মহীন তরুণের সংখ্যা কিছুটা কমলেও, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তা ৩ শতাংশ বেড়েছে। সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত বছর একই সময়ে কর্মহীন তরুণের সংখ্যা ছিল ৯ লাখ ৫১ হাজার। তবে ওএনএস জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তনের দিকে নজর দেওয়াটাই এখানে বেশি যুক্তিযুক্ত।
লন্ডনের ২২ বছর বয়সী এশিয়া ম্যাসন জানিয়েছেন, পড়াশোনা শেষ করার পর চাকরি পেতে তাকে দীর্ঘ দুই বছর সংগ্রামের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ৩০টিরও বেশি চাকরির আবেদন করার পরও অভিজ্ঞতার অভাব দেখিয়ে তাকে বারবার প্রত্যাখ্যান করা হয়। পরবর্তীতে একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এনএইচএস-এ কাজের সুযোগ পান তিনি।
কাজের সুযোগ ও সরকারি পদক্ষেপ
কাজের ও পেনশন সচিব প্যাট ম্যাকফাডেন জানিয়েছেন, সরকার তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। নটিংহামে একটি পাইলট প্রজেক্টের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, পরবর্তী তিন বছরে ৯০ হাজার তরুণকে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও তিন লাখ ওয়ার্ক এক্সপেরিয়েন্স প্লেসমেন্ট এবং ৫০ হাজার শিক্ষানবিশ পদ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে।
তবে বিরোধী দলগুলো সরকারের এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, ট্যাক্স বৃদ্ধির ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হয়েছে, যা তরুণদের জন্য একটি ‘প্রজন্মগত বিশ্বাসঘাতকতা’।
সামাজিক বৈষম্য ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি
অ্যালান মিলবার্নের পূর্ববর্তী প্রতিবেদন অনুযায়ী, তরুণদের কর্মহীনতার পেছনে স্বাস্থ্যগত সমস্যা, প্রথাগত কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়া এবং শিক্ষাগত অর্জনে পিছিয়ে থাকাকে দায়ী করা হয়েছে। দরিদ্র পরিবার, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু এবং নির্দিষ্ট কিছু জাতিগোষ্ঠীর তরুণরা এই সমস্যার শিকার বেশি হচ্ছে। প্রতিবেদনটিতে সতর্ক করা হয়েছে যে, যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে আগামী পাঁচ বছরে প্রতি ছয়জনে একজন তরুণ কর্মহীন থাকবে, যা একটি ‘হারানো প্রজন্ম’ তৈরির ঝুঁকি তৈরি করবে।