যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি এবং শিশুদের গোপনীয়তা রক্ষা সংক্রান্ত মেটার চলমান মামলায় প্রথমবারের মতো সাক্ষ্য দিয়েছেন ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরি। মঙ্গলবার শুনানির সময় তিনি দাবি করেন, কিশোরদের নিরাপত্তা বিষয়ক কিছু তথ্য তার কাছে পৌঁছানো থেকে বিরত রাখতে ইনস্টাগ্রামের কর্মীদের কোম্পানির আইনজীবীরা নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা তার কাছে সম্পূর্ণ নতুন তথ্য।
মামলার প্রেক্ষাপট
মেটার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরা অভিযোগ করেছেন যে, নিজস্ব গবেষণায় অ্যাপের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জানার পরও কোম্পানিটি ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুদের প্ল্যাটফর্মে আসক্ত করে রেখেছে। আদালতে উপস্থাপিত ২০২৩ সালের একটি অভ্যন্তরীণ স্লাইড থেকে দেখা যায়, আত্মহত্যা, আত্মঘাতী প্রবণতা এবং খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যা সংক্রান্ত বিষয়বস্তুর বড় একটি অংশ কিশোর বয়সের ব্যবহারকারীরা দেখছে, যা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় আড়াই গুণ বেশি। এসব তথ্য যেন মোসেরির নজরে না আসে, সেজন্য আইনজীবীরা তা উপস্থাপনা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে তথ্য উঠে এসেছে।
মোসেরির বক্তব্য
আদালতের কাঠগড়ায় মোসেরি বলেন, নিজস্ব কাজের তথ্য আড়াল করার মতো কোনো আলোচনায় তিনি কখনো অংশ নেননি। তিনি বলেন, আমি আইন বিশেষজ্ঞ নই, তাই উপস্থাপনা থেকে তথ্য বাদ দেওয়ার আইনি কারণ আমার জানা নেই। তবে আমি আমার দলকে কোনো কিছু লুকাতে উৎসাহিত করিনি। তিনি আরও দাবি করেন, কোনো নথির আইনি দিক এবং সঠিকতা যাচাই করার দায়িত্ব আইনজীবীদের।
অন্যান্য সাক্ষীদের পর্যবেক্ষণ
এর আগে ইনস্টাগ্রামের প্রোডাক্ট ডিজাইনের পরিচালক ফ্রান্সেসকো ফোগু সাক্ষ্য দেওয়ার সময় জানান, তাকে তথ্য গোপন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যা তার জন্য বিস্ময়কর ছিল। এছাড়া আদালতে ইনস্টাগ্রামের ‘টেক আ ব্রেক’ ফিচারটির নিম্ন গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। মেটার সাবেক ডেটা সায়েন্টিস্ট জর্জ ভোলিচেঙ্কো জানান, কিশোরদের মধ্যে এই ফিচারের ব্যবহার অত্যন্ত হতাশাজনক ছিল।
পরবর্তী পদক্ষেপ
এই মামলার রায় মেটার ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বাদীপক্ষ মেটার কাছ থেকে ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত জরিমানার দাবি জানিয়েছে এবং কোম্পানির অ্যাপ ডিজাইনে ব্যাপক পরিবর্তনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। মোসেরির সাক্ষ্যদান অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গকেও আদালতে তলব করা হতে পারে।