যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত ফ্লক নজরদারি ক্যামেরার রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং এই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গভর্নর অ্যাবটের মুখপাত্র অ্যান্ড্রু মাহালেরিস এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বর্তমানে টেক্সাসের অনেক শহর ও কাউন্টি কর্তৃপক্ষ ফ্লক সেফটির সঙ্গে তাদের চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনা করছে। এরই মধ্যে ফ্লুগারভিল সিটি কাউন্সিল সর্বসম্মতিক্রমে কোম্পানিটির সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ফলে শহরটিতে থাকা ২৮টি ক্যামেরা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। একইভাবে হুড কাউন্টি কর্তৃপক্ষও তাদের ক্যামেরাগুলো সরিয়ে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
ফ্লক সেফটির এই ক্যামেরাগুলো মূলত স্বয়ংক্রিয় লাইসেন্স প্লেট রিডার হিসেবে কাজ করে। এআই প্রযুক্তির সাহায্যে এগুলো গাড়ির মেক, মডেল, রঙ এবং বাম্পার স্টিকারের মতো বিস্তারিত তথ্য রেকর্ড করতে পারে। এই তথ্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকে, যা অপরাধী শনাক্তকরণ বা চুরির গাড়ি উদ্ধারে কার্যকর ভূমিকা রাখে বলে দাবি করে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।
তবে এই প্রযুক্তির বিরুদ্ধে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ বাড়ছে। সমালোচকদের মতে, এই ক্যামেরাগুলো এক ধরণের নজরদারি রাষ্ট্র গড়ে তুলছে এবং ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে ঝুঁকি তৈরি করছে। অন্যদিকে, ফ্লক সেফটির মুখপাত্র প্যারিস লিউবেল দাবি করেছেন, অপরাধ দমন এবং নিখোঁজ ব্যক্তি উদ্ধারে তাদের প্রযুক্তি একটি অপরিহার্য হাতিয়ার। কোম্পানিটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে দায়িত্বশীল ব্যবহারের পক্ষে সমর্থন জানাচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের একটি আইনের মাধ্যমে টেক্সাসে গাড়ি চুরির ঘটনা রোধে এই ক্যামেরাগুলো স্থাপনের জন্য সরকারি অনুদান দেওয়া হয়েছিল। তবে নতুন নির্দেশনার পর, এখন থেকে সরকারি সংস্থাগুলোর তহবিল কোনোভাবেই ফ্লক ক্যামেরা কেনা বা রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যবহার করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। বিষয়টি এখন কেবল টেক্সাসেই সীমাবদ্ধ নেই, মার্কিন সিনেটর জশ হৌলিও এই নজরদারি নেটওয়ার্কের তথ্যভাণ্ডার ও এর ব্যবহারের পরিধি নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।