যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মার্কিন সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ কৌশল ও সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর জেনারেল জন ফেরারি মত দিয়েছেন যে, কোনো নির্দিষ্ট যুদ্ধের আগাম ধারণা অনুযায়ী সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত রাখা যুক্তিযুক্ত নয়, বরং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতা বাড়ানোই এখন সময়ের দাবি। প্রেসিডেন্ট বা নীতিনির্ধারকদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কোনো সংকটই আগে থেকে ঘোষণা দিয়ে আসে না।
ঐতিহাসিকভাবে দেখা গেছে, পার্ল হারবার থেকে শুরু করে ইরাক বা ইউক্রেন যুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই মার্কিন সেনাবাহিনীকে পরিস্থিতির প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে হয়েছে। যখন ইরাক যুদ্ধের সময় পদাতিক বাহিনীর সংকট দেখা দিয়েছিল, তখন দ্রুতগতিতে গোলন্দাজ বাহিনীকে পদাতিক ইউনিটে রূপান্তরিত করতে হয়েছিল। এই পদ্ধতি কাজ করলেও তা ছিল সময়সাপেক্ষ এবং ঝুঁকিপূর্ণ।
বর্তমানে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আগের চেয়ে অনেক দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সাইবার আক্রমণ, ড্রোন প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহজলভ্যতার কারণে যুদ্ধের ধরন এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে জটিল। ভৌগোলিক দূরত্ব এখন আর সামরিক নিরাপত্তার বড় ঢাল নয়, কারণ প্রযুক্তিগতভাবে যেকোনো দেশের মূল ভূখণ্ডে সরাসরি আঘাত হানা সম্ভব হচ্ছে।
জন ফেরারির মতে, সেনাবাহিনীর কাঠামো এমন হওয়া উচিত নয় যে তারা নির্দিষ্ট একটি কাজের জন্যই পারদর্শী। বরং তাদের ‘ট্রান্সফরমার’ বা রূপান্তরযোগ্য হতে হবে। এর মানে হলো, সদর দপ্তর স্থিতিশীল রেখে বিভিন্ন সামরিক সক্ষমতাকে মডুলার বা খণ্ড খণ্ড আকারে সাজাতে হবে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত সেগুলোকে নতুন কোনো মিশনে সমন্বয় করা যায়।
ভবিষ্যৎ যুদ্ধের জন্য কোনো নির্দিষ্ট পূর্বাভাসে আটকে না থেকে অনিশ্চয়তার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করাই হবে মার্কিন সেনাবাহিনীর মূল লক্ষ্য। প্রযুক্তির আধুনিকায়নের সাথে সাথে নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামোকেও দ্রুত পরিবর্তন করতে হবে, যাতে আধুনিক সফটওয়্যার এবং রোবটিক্স যুদ্ধের ময়দানে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হয়।