কেনিয়ার উত্তর অঞ্চলে গবেষকরা ১৪ লক্ষ বছর আগের এমন একগুচ্ছ জীবাশ্ম পায়ের ছাপ খুঁজে পেয়েছেন, যা মানব বিবর্তনের ইতিহাসে নতুন আলো ফেলেছে। ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর ইভোলিউশনারি অ্যানথ্রোপলজির গবেষক কেভিন হাতালার নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক দল এই আবিষ্কারের তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রাচীন লেকের তীরে সংরক্ষিত এই পায়ের ছাপগুলো প্যারাানথ্রোপাস বোইসেই প্রজাতির আটজন সদস্যের বলে শনাক্ত করা হয়েছে, যারা সম্ভবত একসঙ্গে চলাচল করছিল।
সাধারণত হাড়ের জীবাশ্ম থেকে মানুষের দৈহিক গঠন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়, তবে পায়ের ছাপগুলো অনেকটা তাৎক্ষণিক ঘটনার ছবি বা ‘ফসিল বিহেভিয়ার’ হিসেবে কাজ করে। গবেষকদের মতে, এই ছাপগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই আটজন ব্যক্তিই সম্ভবত প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন এবং তাদের শরীরের আকার বর্তমান মানুষের মতোই বড় ছিল। কিছু ক্ষেত্রে তাদের উচ্চতা প্রায় ১.৮ মিটার এবং ওজন প্রায় ৭৫ কেজি ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্যারাানথ্রোপাস বোইসেই প্রজাতিটি নিয়ে আগের গবেষণায় ধারণা করা হতো যে, তাদের শারীরিক গঠন অপেক্ষাকৃত ছোট ছিল। কিন্তু নতুন এই পায়ের ছাপ সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে। গবেষক কেভিন হাতালার মতে, এই প্রজাতি সম্পর্কে এখন পর্যন্ত পাওয়া অধিকাংশ জীবাশ্মই কেবল করোটি বা চোয়ালকেন্দ্রিক ছিল, কিন্তু পায়ের ছাপের মাধ্যমে তাদের শরীরের নিচের অংশের গঠন ও চলাচলের ধরন সম্পর্কে সরাসরি প্রমাণ পাওয়া সম্ভব হয়েছে।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-গবেষক নীল রোচ জানান, আটজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের একসঙ্গে চলাফেরা করার বিষয়টি ইঙ্গিত দেয় যে, তাদের সামাজিক কাঠামো বেশ জটিল ছিল। দলে নারী বা শিশুর অনুপস্থিতি থেকে বোঝা যায়, তারা হয়তো নিরাপত্তার খাতিরে বা প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার জন্য দলবদ্ধভাবে থাকত এবং পুরুষরা নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করত।
কেনিয়ার লেক তুর্কানা এলাকাটি দীর্ঘকাল ধরেই মানব বিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। গবেষকদের মতে, ওই লেকের তীরে জীবাশ্মের এমন সংরক্ষণ প্রমাণ করে যে, এই এলাকাটি প্রাচীন মানবপ্রজাতিগুলোর জন্য সম্পদশালী ও গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল ছিল। আগামীতে এই অঞ্চলে আরও অনুসন্ধানের পরিকল্পনা করছেন বিজ্ঞানীরা, যা বিবর্তনের অজানা অনেক অধ্যায় উন্মোচনে সহায়তা করবে।