অ্যান্টার্কটিকার থোয়েটস হিমবাহ এলাকায় ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ করে সেখানে কয়েকশ অজানা ভূমিকম্পের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জিওফিজিক্স গবেষক থান-সন ফাম এই গবেষণায় জানান, ২০১০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অ্যান্টার্কটিকার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৩৬২টি ভূকম্পন শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৪৫টি ভূমিকম্পই হয়েছে সমুদ্রতীরবর্তী ‘ডুমসডে গ্লেসিয়ার’ বা থোয়েটস হিমবাহের কাছে।
গবেষকদের মতে, হিমবাহের প্রান্ত থেকে বিশালাকার বরফের খণ্ড যখন সমুদ্রে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তখন তা মূল হিমবাহের সঙ্গে প্রচণ্ড সংঘর্ষের সৃষ্টি করে। এই সংঘর্ষ থেকেই তৈরি হয় গ্লেসিয়াল আর্থকোয়েক বা হিমবাহজনিত ভূমিকম্প। এ ধরনের ভূমিকম্পে সাধারণ ভূকম্পনের মতো উচ্চ কম্পাঙ্কের তরঙ্গ তৈরি হয় না বলে এতদিন তা শনাক্ত করা কঠিন ছিল।
ডুমসডে গ্লেসিয়ারের গুরুত্ব
থোয়েটস হিমবাহটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, যদি এই হিমবাহ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে, তবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ৩ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এই এলাকায় ভূমিকম্পের হার সবচেয়ে বেশি ছিল, যা ওই সময়ে হিমবাহটির সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যাওয়ার গতি বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সামুদ্রিক অবস্থার পরিবর্তন এই হিমবাহের স্থিতিশীলতাকে অস্থিতিশীল করে তুলছে কি না, তা নিয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। এর মাধ্যমে আগামী কয়েক শতাব্দীতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হার সম্পর্কে সঠিক পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব হতে পারে। এছাড়া পাইন আইল্যান্ড হিমবাহের কাছেও ভূকম্পনের আরেকটি গুচ্ছ শনাক্ত হয়েছে, যা নিয়ে পরবর্তী ধাপে অনুসন্ধান চালানো হবে।