ভারতের মধ্যপ্রদেশে পুলিশের সহকারী কর্মকর্তা ববিতা সিংয়ের জীবন এবং তাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা খুনের রহস্য নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘ববিতা সিং রিপোর্টিং’। পরিচালক অম্বিকা পান্ডিতের এই ক্রাইম-ড্রামা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পেয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও পারিবারিক নানা চাপের মুখে ববিতার নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলার লড়াই এবং শৈশবের বন্ধু বানসির হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের মধ্য দিয়ে সিনেমাটির কাহিনি এগিয়েছে।
সিনেমাটি মূলত ববিতা সিংয়ের জীবনের জটিল এক সমীকরণের ওপর আলোকপাত করে। একদিকে পেশাগত দায়িত্ব পালন, অন্যদিকে শ্বশুরবাড়ির সবার মন জুগিয়ে চলা এক ‘বেবি’ হিসেবে পরিচিতি—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে ববিতার অস্তিত্ব সংকটের বিষয়টি এখানে বড় হয়ে উঠেছে। চাকরিতে পুলিশ হলেও সংসারে পুত্রবধূ হিসেবে তিনি কতটা কোণঠাসা, তা নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
ছবির মূল রহস্য শুরু হয় যখন ববিতা তার শৈশবের বন্ধু বানসির হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নামে। তবে খুনি খোঁজার চেয়েও নির্মাতা ববিতার নিজের অতীতে ফেরার যাত্রা এবং দাম্পত্য জীবনের জটিলতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ববিতার স্বামী শরদের চরিত্রটির মাধ্যমে পিতৃতন্ত্রের এমন এক স্বরূপ উন্মোচিত হয়, যেখানে আপাতদৃষ্টিতে ভালো মানুষ হওয়া সত্ত্বেও স্ত্রীর ওপর আধিপত্য বিস্তারকে স্বাভাবিক বলে মনে করা হয়।
ছবিতে ববিতার চরিত্রে নিমিশা সাজয়নের অভিনয় দর্শকদের নজর কেড়েছে। তাকে এখানে কোনো সুপারকপ হিসেবে দেখানো হয়নি, বরং একজন বাস্তবসম্মত, ভীত ও দ্বিধাগ্রস্ত মানুষ হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া শরদের চরিত্রে অংশুমান পুষ্কর এবং শাশুড়ির চরিত্রে সুনীতা রাজওয়ারের অভিনয় ছবিটিকে আরও প্রাণবন্ত করেছে।
ছবিটির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো মধ্যবিত্ত পরিবারের খুঁটিনাটি অপমান ও নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণকে ফুটিয়ে তোলা। শাড়ি নির্বাচন থেকে শুরু করে থাইরয়েডের সমস্যা—সবকিছুই কীভাবে একজন নারীকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়, তা এখানে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তবে খুনের রহস্যের সমাধান কিছুটা তাড়াহুড়ো করে শেষ করায় ছবির শেষাংশ কিছুটা দুর্বল মনে হতে পারে। সব মিলিয়ে, ‘ববিতা সিং রিপোর্টিং’ খুনি ধরার চেয়েও একজন নারীর নিজেকে খুঁজে পাওয়ার এক শক্তিশালী আখ্যান।