যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ছোট ব্যবসার উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি বিশ্লেষক ডেভিড গেউয়ার্টজ তার ব্যবসায়িক উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ‘চ্যাটজিপিটি ওয়ার্ক’ ব্যবহারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই টুলটি ব্যবহার করে জটিল ব্যবসায়িক কাজগুলোকে দ্রুত ও সহজভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।
ইমেইল ব্যবস্থাপনা
গেটউয়ার্টজ তার ইমেইল গোছাতে এবং নির্দিষ্ট কথোপকথনের ইতিহাস খুঁজে পেতে চ্যাটজিপিটি ওয়ার্ক ব্যবহার করেন। গোপনীয়তা বজায় রাখতে তিনি শুধুমাত্র বড় কোনো কাজের প্রয়োজনে জিমেইল কানেক্টর চালু করেন এবং কাজ শেষে তা পুনরায় বন্ধ করে দেন। এর মাধ্যমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো দ্রুত খুঁজে পান।
ডেটা বিশ্লেষণ ও প্রেজেন্টেশন
তিনি কাঁচা ডেটাকে পাওয়ারপয়েন্ট স্লাইডে রূপান্তরের কাজে এআই টুলটি ব্যবহার করেন। যদিও স্লাইডের নান্দনিকতায় কিছু ত্রুটি থাকতে পারে, তবে এটি বিশাল ডেটাসেট থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংক্ষেপ করে চার্ট তৈরি করতে অত্যন্ত কার্যকর। এটি তার ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ কয়েক মিনিটে কমিয়ে আনে।
অ্যাপ কৌশল নির্ধারণ
মোবাইল অ্যাপের ফিচার ও মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রেও তিনি এই এআই টুলের সহায়তা নেন। সোর্স কোড বিশ্লেষণ করে অ্যাপের জন্য উপযুক্ত মার্কেটিং তালিকা তৈরি এবং অ্যাপ স্টোরের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাপের কৌশল বুঝতে চ্যাটজিপিটি ওয়ার্ক বড় ভূমিকা রাখে।
অবকাঠামো মূল্যায়ন
৩ডি প্রিন্টারের জন্য বিদ্যুতের লোড সামলাতে এবং উপযুক্ত পাওয়ার ব্যাকআপ ডিভাইস বাছাইয়ে এআই টুলটি তাকে সহায়তা করেছে। তিনি জানান, প্রিন্টার এবং সার্কিট অবকাঠামোর তথ্য বিশ্লেষণ করে এআই তাকে সঠিক যন্ত্রাংশ নির্বাচনের পরামর্শ দিয়েছে।
আর্থিক বিশ্লেষণ
ব্যবসায়িক ঋণ এবং ভেন্ডর বিলের শর্তাবলী যাচাইয়েও তিনি চ্যাটজিপিটি ওয়ার্ককে কাজে লাগিয়েছেন। ঋণ চুক্তির লুকানো শর্তাবলী বা অস্বচ্ছ দিকগুলো ধরতে এটি তাকে সাহায্য করেছে, যা সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি থেকে তার ব্যবসাকে রক্ষা করেছে।
সতর্কতা
গেউয়ার্টজ স্পষ্ট করেছেন যে, এআই টুলটি অনেক সময় ভুল তথ্য প্রদান করতে পারে। তাই সবকিছুর ওপর মানুষের তদারকি বা যাচাই-বাছাই করা জরুরি। এআই-কে সহায়ক টুল হিসেবে ব্যবহার করা উচিত, কিন্তু অন্ধভাবে এর আউটপুটের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়।