জাপানের টোকিওতে নিনটেনডোর গেমকিউব কনসোল চালুর ২৫ বছর পূর্তি হচ্ছে এ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে প্রযুক্তি এবং গেমিং কন্ট্রোলারের নকশায় অনেক পরিবর্তন আসলেও গেমকিউব কন্ট্রোলারটির জনপ্রিয়তা কমেনি। গেমারদের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা এতই বেশি যে নিনটেনডো তাদের পরবর্তী প্রতিটি হোম কনসোলে এই কন্ট্রোলার ব্যবহারের সুযোগ রেখেছে এবং সময়ের প্রয়োজনে বারবার এটি নতুন সংস্করণে বাজারে ছেড়েছে।
অনন্য নকশা ও বাটন লেআউট
গেমকিউব কন্ট্রোলারের বাটন বিন্যাস প্রচলিত কন্ট্রোলার থেকে একেবারেই আলাদা। এখানে ‘এ’ বাটনটি বড় এবং সবুজ রঙের, যা নতুন খেলোয়াড়দের বুঝতে সুবিধা দেয় কোনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাটন। এছাড়া এর ‘এক্স’ ও ‘ওয়াই’ বাটনগুলো কিডনি আকৃতির হওয়ায় না তাকিয়েই আঙুলের স্পর্শে সঠিক বাটনটি চেনা সম্ভব। এর অ্যানালগ এল এবং আর বাটনগুলো চাপের তীব্রতা অনুযায়ী কাজ করে, যা সুপার মারিও সানশাইনসহ অনেক গেমের অভিজ্ঞতায় বিশেষ মাত্রা যোগ করে। এছাড়া এর আটকোণা থাম্বস্টিক গেট নিখুঁত মুভমেন্টের জন্য গেমারদের প্রথম পছন্দ।
সুপার স্ম্যাশ ব্রোস ও উত্তরাধিকার
গেমকিউব কন্ট্রোলারের দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তার পেছনে সুপার স্ম্যাশ ব্রোস সিরিজের বড় অবদান রয়েছে। এই সিরিজের প্রতিযোগিতামূলক আসরগুলোতে খেলোয়াড়দের মধ্যে গেমকিউব কন্ট্রোলার ব্যবহারের অভ্যাস তৈরি হয়েছে। এমনকি নিনটেনডো সুইচ কনসোলের জন্য অ্যাডাপ্টার তৈরির মাধ্যমেও এই কন্ট্রোলার ব্যবহারের সুযোগ রেখেছে কোম্পানিটি। প্রতিযোগিতামূলক খেলার পাশাপাশি ক্যাজুয়াল গেমিংয়ের ক্ষেত্রেও এই কন্ট্রোলারের বাটন মেমোরি গেমারদের কাছে একটি আস্থার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সীমাবদ্ধতা ও টেকসই মান
তবে এই কন্ট্রোলারটি সব দিক থেকে নিখুঁত নয়। এর ছোট ডি-প্যাড এবং সি-স্টিক অনেক সময় আধুনিক গেমিংয়ের জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর হতে পারে। বিশেষ করে অন্য কনসোলের গেম খেলার সময় এর ভিন্নধর্মী বাটন লেআউট কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ওভবার্ড ওয়্যারলেস কন্ট্রোলারটি সে সময় প্রযুক্তিগত বিপ্লব ঘটিয়েছিল। বর্তমানে সুইচের জয়-কন কন্ট্রোলারের স্টিক ড্রফট ইস্যু নিয়ে গেমারদের অভিযোগ থাকলেও, পুরোনো গেমকিউব কন্ট্রোলারগুলো এখনো অনেক গেমার দীর্ঘস্থায়ী মান ও স্থায়িত্বের কারণে ব্যবহার করছেন।